সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ জুনঃ শুক্রবার আলিপুর আদালতে যাওয়ার সময় কুন্তল ঘোষ সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেন যে, ইডি তদন্তকে ভুলপথে চালিত করছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে কুন্তলের সেই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিলও বটে। তবে এদিন আদালত থেকে বেরনোর সময় আরও বিস্ফোরক কথা বলেন বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। এবার তাঁর টার্গেট বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তলের দাবি, বিজেপির ইশারায় চলছে ইডি। ইডির সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আঁতাতের দাবি করেছেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ। উঠে আসে রাহুল বেরা নামটিও।

পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীরা গত ৩০ মে’র কললিস্ট খতিয়ে দেখার দাবিও জানিয়েছেন কুন্তল। আদালত থেকে বেরনোর সময় ইডি’র বিরুদ্ধে একহাত নেন কুন্তল। তিনি বলেন, “আমার ১ ফেব্রুয়ারির স্টেটমেন্ট নিয়ে ইডি মিথ্যে বলছে। আদালতে ফাঁসাচ্ছে। ইডি মিথ্যাচারের ভিত্তিতে তদন্ত করছে। ইডি বিজেপির ক্যাডার হয়ে কাজ করছে। শুভেন্দু অধিকারী ফোন চেক করা হোক। ইডি শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরাকে কেন গ্রেফতার করছে না, সে প্রশ্নও তোলেন বহিষ্কৃত যুব তৃণমূল নেতা।

এদিকে,নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’র গ্রেফতারির পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। বিরোধীদের অনেকেই বলছেন, পার্থর গ্রেফতারির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই কাকুর গ্রেফতারি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাহুল বেরা নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডমিট কার্ড, নথি, ছবি-সহ অনেক তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর এই নির্দেশ দিয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু। উল্লেখ্য,কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে গত ৩০ মে তলব করা হয়েছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে ওইদিন গ্রেফতার হন তিনি।
আরও পড়ুন বালেশ্বর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি অনেকখানি তাৎপর্যপূর্ণ। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। তার উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষাকবচ পাননি। স্বাভাবিকভাবেই, তদন্তের গতি প্রকৃতির ওপর নজর থাকবে প্রত্যেকেরই। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।


More Stories
তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত মমতা, সাসপেন্ড অভিষেক
মিলেছে”প্রমাণ “, বারাসাত কলেজে গোপনে মদ্যপান ও যৌনশিক্ষার আসর চলার অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গ নতুন সরকারের নতুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট, কী পেল রাজ্যবাসী?