সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ জুনঃ গত দু’মাস ধরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। অশান্ত মণিপুরে কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি। অবশেষে আমেরিকা এবং ইজিপ্ট সফর থেকে ফিরে সোমবার নিজ বাসভবনেই মণিপুরের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরী বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মণিপুরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রীকে। তারপরই উচ্চ স্তরের বৈঠক করেন তিনি। এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন,অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
আরও পড়ুন অশান্ত মণিপুরে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর দাবি

এদিকে,শনিবার বিকেল ৩’টায় অশান্ত মণিপুর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে বৈঠক বসে। এদিনের এই বৈঠকে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মণিপুরে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর দাবি ওঠে। এদিন বৈঠকে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি করেন সমাজবাদী দলের রামগোপাল যাদব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কানরাড সাংমাও,সমাজবাদী দলের রামগোপাল যাদব,বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র,কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রমুখ। এর আগেও গত মাসে মণিপুরের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই বৈঠক কার্যত কোনও কাজেই আসেনি।

আরও পড়ুন মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার আর্জি কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির
মণিপুরে হিংসা শুরুর ৫২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি শব্দও ব্যয় করেননি। এহেন পরিস্থিতিতে একাধিক দলের প্রতিনিধি দাবি করেন, মণিপুরের সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেখানে যাওয়া উচিত। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠককে প্রথম থেকেই কংগ্রেস তেমন গুরুত্ব দিতে চায়নি। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন,পঞ্চাশ দিন ধরে জ্বলছে মণিপুর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এইনিয়ে একটা কথাও বলেননি। আমরা তো প্রথম থেকেই মণিপুরে সর্বদলীয় প্রতিনিধি পাঠানো দাবি করে এসেছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী ইজিপ্ট থেকে ফিরে আসার পরে মণিপুরের দিকে নজর দেবেন। অন্যদিকে,মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কানরাড সাংমাও বলেন,‘মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সেখানের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটাও জরুরী। তাই সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া উচিত।’


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?