Home » কোচবিহারে অশান্তির জের, নিশীথ প্রামাণিককে জেড প্লাস নিরাপত্তা দিল কেন্দ্র

কোচবিহারে অশান্তির জের, নিশীথ প্রামাণিককে জেড প্লাস নিরাপত্তা দিল কেন্দ্র

সময় কলকাতা ডেস্ক,১ জুলাই ঃ পঞ্চায়েত ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কোচবিহার। অশান্তি যেন কিছুতেই থামছেই না কোচবিহারে। মার পাল্টা মারের রাজনীতি চলছেই। কখনও গুলি, বোমা, কখনও ভাঙচুর। ভোটের আবহে ঘটেছে প্রাণহানিও। শাসক-বিরোধী তর্জায় বারবার শিরোনামে এসেছে কোচবিহার। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড প্লাস করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। অমিত শাহর নির্দেশেই অমিত শাহর ডেপুটির নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। মনোনয়ন পর্বে নিশীথ প্রামাণিকের গাড়িতে হামলাও চালানো হয়। একের পর এক ঘটনার জেরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই পাশাপাশি কোচবিহারে একাধিক বিজেপি বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
সুত্রের খবর, পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন নিশীথ প্রামাণিকও। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্যই নিশীথের নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হচ্ছে বলে মত তৃণমূলের অনেকেরই। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, লোকসভা ভোটে নিশীথের লড়াই সহজ নয়। গত লোকসভা ভোটের সময়ে তৃণমূল থেকে লোক ভাঙিয়ে নিয়ে গেছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। তাঁরা বেশিরভাগই পুরনো দলে ফিরে গেছেন। নিশীথ বুঝতে পারছেন, পঞ্চায়েত ভোটে কোচবিহারে গরিষ্ঠ সংখ্যক আসন না পেলে লোকসভা ভোটে চাপ বা়ড়তে পারে। সেই কারণেই তিনি এবার আরও মরিয়া।
এদিকে, কোচবিহারের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শুক্রবার রাতে কোচবিহার সার্কিট হাউসে পৌঁছে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যপাল জানান, বাংলায় আর হিংসার ঘটনা বরদাস্ত নয়। ভোট নিয়ে আর কোনও অশান্তি চলবে না। এমন কোনও ঘটনার কথা কানে এলেই তিনি যথাযথ পদক্ষেপ করবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চাইলে তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে অভিযোগের কথা জানতে পারেন। তিনি শুনবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবেন। সিভি আনন্দ বোস। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, শনিবারই তিনি ‘অশান্ত’ দিনহাটা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসকবলিত এলাকায় যাবেন। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পুলিশ প্রশাসন এবং জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি আরও জানান, সম্পুর্ন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তিনি। হিংসা রুখতে রাজভবনে খোলা হয়েছে ‘পিস রুম।’ তা নিয়ে শাসকদল কটাক্ষ করলেও রাজ্যপাল থামেননি। শুক্রবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়েছেন আগেই কলকাতার রাজভবনে ‘পিস রুম’ তৈরি হয়েছে। এখন তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। তাই মানুষ চাইলে তাঁকে সরাসরি ভোট সম্পর্কিত হিংসা, ঝামেলা ইত্যাদির অভিযোগ জানাতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আমাকে চাইলে থামাতে পারেন। আমি গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাঁদের কথা শুনব। যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে, সেখানে নিজে যাব।

About Post Author