Home » পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত বঙ্গ, শুধুই ঝরছে প্রাণ

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত বঙ্গ, শুধুই ঝরছে প্রাণ

সময় কলকাতা ডেস্ক,৫ জুলাই : পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে  প্রকৃত অর্থেই উত্তপ্ত বঙ্গ । রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বঙ্গ উত্তপ্ত হয়েই চলেছে। বঙ্গ উত্তপ্ত হওয়ার চিত্র সামনে আসছে প্রতিদিন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে আরেকটি প্রাণহানী ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনায়।মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার  দেগঙ্গার শোয়াইসেতপুরে তৃণমূলের মিছিলে বোমা পড়ে যার ফলে প্রাণ হারায় ১৭ বছরের এক কিশোর । পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মৃত্যুর ঘটনায় দেগঙ্গা উত্তপ্ত।নিহতের কাকা মহম্মদ আরসাদুল হক নিজেকে দীর্ঘ দিনের তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমাদের মিছিলে বোমা ছুড়েছে সিপিএম, আইএসএফ। আমরা চাইব প্রশাসন যেন দোষীদের উপযুক্ত সাজা দেয়।”

দেগঙ্গার ঘটনায় সিপিএম ও আইএসএফের বক্তব্য জানা না গেলেও বারাসাতের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‌স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আইএসএফ বোমা–গুলি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ”। পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের বুধবার বারাসাত আদালতে তোলা হয়।অন্যদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে হিংসার খবর মিলেছে বসিরহাট থেকেও ।অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত্রি নটা নাগাদ হাসনাবাদের পাটলি খানপুরে সিপিএমের আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তার ১২বছরের ছেলেকে আক্রমণ করে।

হাসনাবাদের ঘটনায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী জয়নাল আবেদিন গাজী বলেন, পাশের গ্রামে থাকার সময় সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। আক্রান্ত জানিয়েছে তার গোড়ালিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে । পাটুলি খানপুর পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রার্থী সাজিদা বিবি পাল্টা চক্রান্তর করে ফাঁসানোর অভিযোগের কথা তুলছেন। প্রশাসনও আমাদের পাশে নেই। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অভিযোগ ও চাঞ্চল্যর দোলাচলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত বঙ্গ।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের তান্ডবে “দানবের রাজত্ব” চলছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।১৬ জুন ডায়মন্ড হারবারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে, ত্রিপুরায় তো ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মনোনয়নই জমা দিতে দেওয়া হয় না। পকসো কেসেও অ্যারেস্ট হয় না। এখানে বিধানসভা ভোটের পরে নির্বাচন কমিশনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা থাকার সময়ও যে মৃত্যু হয়েছে তাঁর জন্যও আমাদের ছেলেদের অ্যারেস্ট করেছে। ১৫৫টি সেন্ট্রাল টিম পাঠানো হয়েছে। কোথাও মারছে, কোথাও কাটছে। কোর্টে গিয়েও খুন করে দিয়ে আসছে। দানবের রাজত্ব চলছে। কিন্তু সেখানে নক্কারজনক কয়েকটা রাজনৈতিক দল, যাদের নাম বলতে আমার ঘৃণা হয়। যারা মানুষকে খুন করত। নন্দীগ্রামে এখনও খুঁজলে হয়তো মৃতদেহ পাওয়া যাবে। হাত কাটত, পা কাটত, মুন্ডু কাটত, কাউকে নমিনেশন ফাইল করতে দেওয়া হত না। ১০০-এ ১০০ ভোট পেত, আর আজ তারা গলা উঁচিয়ে বড় বড় কথা বলছে। ওরা নাকি প্রতিরোধ করবে। হ্যাঁ, নিজেদের কথা প্রতিরোধ করুন। শুভ শক্তির উদয় হোক। নাহলে জানবেন এক হাতে তালি বাজে না” মুখ্যমন্ত্রী শুভ বুদ্ধির কথা বললেও বাস্তব চিত্র কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। অধীর চৌধুরী এর আগেই পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন এবং তা রক্ষিত না হওয়ায় তাঁর আবেদন ছিল নির্বাচনের দফা বাড়ানোর। বুধবার তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। অধীর চৌধুরীর পক্ষে তাঁর আইনজীবী বলেন, নির্বাচনী সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট না করানোর ফলে ভোটে দফা আরও বাড়াতে হবে। নইলে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।বুধবার টি এস শিবজ্ঞানম ও হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অধীর চৌধুরীর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছে, ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় ভোটের দফাও বাড়ানো হবে না। আদালতের রায়ের পরেও মৃত্যু থেমে নেই বঙ্গে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বাদ নেই কিশোর স্কুল ছাত্রও। হিংসার আবহ থেকে মুক্তি মিলবে কীকরে তার সুনির্দিষ্ট কোন দিশা নেই। রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধীরা একে অপরের প্রতি চাপানউতোরে ব্যস্ত। যদিও লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ভোটের তবুও বাস্তব চিত্র বলছে রাজায় রাজায় যুদ্ধে উলুখাগড়ার প্রাণ যাচ্ছে। বঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে শুধুই ঝরে পড়ছে প্রাণ।।

About Post Author