Home » জল্পনার অবসান! আইনে পরিণত হল দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল

জল্পনার অবসান! আইনে পরিণত হল দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ আগস্ট:  বিরোধীদের একাধিক তর্ক-বিতর্কের পরও সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষেই পাশ হয়েছিল বিতর্কিত দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল ২০২৩। শনিবার, ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওই বিলে সাক্ষর করতেই দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল আইনে পরিণত হল। এর ফলে দিল্লিতে আমলাদের নিয়োগ ও বদলির ক্ষমতা এবার থেকে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতেই থাকবে। শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু চারটি বিলে সাক্ষর করেন। বিলগুলি হল- ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন বিল, দ্য রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, জন বিশ্বাস  বিল ও গর্ভমেন্ট অব ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অব দিল্লি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল।

জানা গিয়েছে, গত ১ আগস্ট লোকসভায় ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অব দিল্লি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর গত ৭ আগস্ট রাজ্যসভাতেও দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল পেশ করা হয়। রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে এই বিলের পক্ষে ১৩১টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেন ১০২ জন। সংসদের দুই কক্ষে এই বিল পাশ করার পর অপেক্ষা ছিল কেবল রাষ্ট্রপতির সাক্ষরের। এই বিল আইনে পরিণত হতেই, আমলাদের নিয়োগ ও বদলির ক্ষমতা রাজ্য সরকারের বদলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে এল। যদিও দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টির তরফে প্রথম থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট রাজ্যসভার ভোটাভুটিতেও পাশ হয়ে যায় দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল, ২০২৩। ওইদিন বিলের সপক্ষে পড়েছে ১৩১ টি ভোট ও বিলের বিপক্ষে পড়েছে ১০২ টি ভোট।   এর আগে গত ৩ আগস্ট লোকসভায় পাশ হয় দিল্লি অর্ডিন্যান্স বিল। তারপরেই রাজ্যসভার ভোটাভুটিতেও উত্তীর্ণ হয় এই বিলটি। রাজ্যসভার মোট আসন সংখ্যা ২৪৫। তার মধ্যে বর্তমানে আটটি আসন ফাঁকা রয়েছে। কার্যত সেকারণেই এই মুহূর্তে রাজ্যসভায় মোট সাংসদ সংখ্যা ২৩৭। বিলটি রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ১১৯ জন সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু,বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৩১ জন সাংসদ। দুর্নীতি-মুক্ত প্রশাসন গড়তে এই বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মত দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

আরও পড়ুন   স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য নিযুক্ত করল স্বাস্থ্য দপ্তর, অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অপসারিত উপাচার্য সুহৃতা পাল

এদিন দীর্ঘ আলোচনার পর সংসদের উচ্চকক্ষে ‘গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল টেরিটোরি অফ দিল্লি বিল ২০২৩’  পাশ হয়। রাজ্যসভায় বিল পাশ হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন অমিত শাহ বলেন,’যেহেতু সুপ্রিম কোর্টও মেনে নিয়েছে যে দিল্লির যে কোনও বিষয়ে আইন পাস করার অধিকার সংসদের রয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই যে পরিষেবাগুলি বিষয়ের বিভাগে পড়ে না!’ সেইসঙ্গে কংগ্রেসকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, আম আদমি পার্টিকে তুষ্ট করতে আজ কংগ্রেস এই বিলের বিরোধিতাই শুধু নয়, নিজের সরকারের তৈরি আইনেরও বিরোধিতা করছে। তারা  সম্পূর্ণ রাজ্যের ক্ষমতা ভোগ করতে চায়।‘

About Post Author