Home » বারাসতে নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত একাধিক

বারাসতে নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত একাধিক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ আগস্ট: এগরা, বজবজের পর এবার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের জেরে এখন পর্যন্ত একাধিক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু আশঙ্কা রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে  ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে এখন চলছে দেহ উদ্ধারের কাজ।  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আহতদের। ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছে দমকল। এদিন  বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্ফোরণের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সংলগ্ন নীলগঞ্জের মোচপোল এলাকার বেআইনি ওই বাজি কারখানায় শব্দবাজি তৈরি হত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে নীলগঞ্জের মোচপোল।  বেআইনি ওই বাজি তৈরির  কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা মজুত থাকায় বিস্ফোরণে পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে ওই কারখানাটি।  এদিন বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের  বাড়ির  টালির চাল, পেয়ারা গাছে  আটকে যায় একাধিক দেহ। ইতিমধ্যেই সেই দেহগুলি নামানোর কাজ চলছে। মাটির সঙ্গে মিশে যায় পাকা বাড়ি। এমনকী আশেপাশের বেশকয়েকটি বাড়িও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে  গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে  ব়্যাফ নামানো হয়েছে।

আরও পড়ুন   বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড বানতলার রাসায়নিক কারখানার গোডাউনে, ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন

 

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের খবর চাউর হতেই ঘটানাস্থলে পৌঁছিয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে রমরমিয়ে চলত বেআইনি বাজি কারখানাটি? তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই  গোটা ঘটনায় সামসুর আলি এবং আজিবর রহমানের নাম উঠে আসছে। তাদের বাড়ির গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর শব্দবাজি। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে আগুন নেভানোর কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা সামসুর আলি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও রাজ্যের বেশ কিছু মন্ত্রীর মদতে চলত বাজি কারখানাটি। এমনকী রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও স্থানীয়দের সেই দাবিকে কার্যত  উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি কিছুই জানতেন না।

About Post Author