Home » যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর জের, র‍্যাগিং রুখতে ক্যাম্পাসে আসছে ইসরোর টিম

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর জের, র‍্যাগিং রুখতে ক্যাম্পাসে আসছে ইসরোর টিম

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার র‍্যাগিং-মুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ইসরো-র চেয়ারম্যান এস সোমনাথের সঙ্গে কথা বললেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে কীভাবে র‍্যাগিং আটকানো যায়, তা নিয়ে শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ ইসরোর সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। এদিন ইসরোর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে কথা বলেন তিনি। কীভাবে প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলিকে র‍্যাগিং থেকে মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে উভয়ের মধ্যে। শুধু ইসরোর চেয়ারম্যানের সঙ্গেই নয়, এর পাশাপাশি হায়দ্রাবাদের একটি সংস্থার সঙ্গেও এই নিয়ে আলোচনা করেছেন রাজ্যপাল বোস। ভিডিয়ো অ্যানালিসিস, ইমেজ ম্যাচিং, অটোমেটিক টার্গেট রিকগনিশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলিকে ব্যবহার করে এই সমস্যার থেকে মুক্তির একটি যথাযথ উপায় বার করার বিষয়ে ইসরো ও হায়দ্রাবাদের ওই সংস্থা সাহায্যের বার্তা দিয়েছে রাজভবনকে।

এই নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য রাজ্যপাল যাদবপুরের উপাচার্যকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে র‍্যাগিং থেকে মুক্ত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে ইসরো। ইতিমধ্যেই যাদবপুর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে,আপাতত হস্টেলের গেটে ও মেন গেটে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথা ভাবছে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রিপোর্ট জমা করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট মারফত জানা গিয়েছে, গত ৯ আগস্ট রাতে রাগিংয়েরই শিকার হয়েছিলেন প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া। আগামী সপ্তাহেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে বলেই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে,এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে শুক্রবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এদিন থানায় রেজিস্ট্রার জানান, ‘ আমাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। পুলিশের কাছে তা পাঠিয়ে দেব।’

আরও  পড়ুন   মিশন এশিয়ান গেমস ২০২৩! ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের

প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবারই হস্টেলে থাকা আরও ৫ পড়ুয়াকে তলব করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ৯ আগস্ট রাতে হস্টেলে যখন মৃত ওই ছাত্রের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করা হয়, সেসময় এই পাঁচ পড়ুয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ৫ জনকে তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই আবাসিকের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ৯ তারিখ হস্টেলের বারান্দা থেকে খুব চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এতকিছুর পরও হস্টেল কতৃপক্ষ কেন কিছুই জানতে পারেননি,, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সবটা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এদিকে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বুধবার তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। জানা গিয়েছে, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল সৌরভ চৌধুরীই। গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের এ২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা ক্যাম্পাস। মৃতের পরিবার, থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই ঘটনার পিছনে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।

About Post Author