Home » বারাসাতের নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের উদ্ধার দেহ, নিখোঁজ বহু

বারাসাতের নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের উদ্ধার দেহ, নিখোঁজ বহু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ আগস্ট:   উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত সংলগ্ন নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায়  ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও রয়ে গিয়েছে আতঙ্ক। থমথমে গোটা এলাকা। এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। রবিবার সকাল থেকেই নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সোমবার সকালে ফের মুণ্ডহীন দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। কোনও জায়গা থেকে পায়ের পাতা, কোনও জায়গায় ডান হাতের কনুই থেকে কাটা অংশ উদ্ধার হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে এখনও চলছে দেহ উদ্ধারের কাজ। জানা গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও অনেকেই নিখোঁজ। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। ইতিমধ্যেই জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে। কেননা জঙ্গলের মধ্যেই ছিল বোমা তৈরির মূল কারখানা। ঝোপের মধ্যেও দেহের কাটা অংশ পড়ে থাকতে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

রবিবারই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআইডির টিম। প্রাথমিক তদন্তের পর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় আরও অনেক বেআইনি বাজি কারখানার হদিশ পেয়েছে সিআইডি। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বেআইনি বিস্ফোরক মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে। যখন তখন ফের অঘটনের শঙ্কা মোচপোলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সংলগ্ন নীলগঞ্জের মোচপোল এলাকার বেআইনি ওই বাজি কারখানায় শব্দবাজি তৈরি হত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নীলগঞ্জের মোচপোল। মুহূর্তের মধ্যে নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। জানা গিয়েছে,বেআইনি ওই বাজি তৈরির কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা মজুত থাকায় বিস্ফোরণে পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে কারখানাটি। রবিবার রাতের পর সোমবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।

আরও পড়ুন     মুম্বইয়ের ৭৯ বছরের বৃদ্ধ স্ত্রীকে কোপালেন, করলেন আত্মহত্যার চেষ্টা

এদিন বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের বাড়ির টালির চাল, পেয়ারা গাছে আটকে যায় একাধিক দেহ। মাটির সঙ্গে মিশে যায় পাকা বাড়ি। এমনকী আশেপাশের বেশকয়েকটি বাড়িও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব়্যাফ নামানো হয়। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের খবর চাউর হতেই ঘটানাস্থলে পৌঁছিয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে রমরমিয়ে চলত বেআইনি বাজি কারখানাটি? তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও রাজ্যের বেশ কিছু মন্ত্রীর মদতে চলত বাজি কারখানাটি। এমনকী রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও স্থানীয়দের সেই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি কিছুই জানতেন না। গোটা ঘটনায় দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

About Post Author