Home » নীলগঞ্জে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় হদিশ মিলল আরও তিনটি বাজির গুদামের

নীলগঞ্জে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় হদিশ মিলল আরও তিনটি বাজির গুদামের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ আগস্ট: বারাসাতের নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে নাবালকও। এখনও থমথমে গোটা এলাকা। নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরেই অভিযুক্ত কেরামত আলির আরও তিনটি গুদামের হদিশ মিলল। গুদামগুলিতে এখনও প্রচুর রাসায়নিক মজুত রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ঘন জনবসতি এলাকায় এ ধরনের গুদাম থাকায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও গুদাম ভাড়া করে বাজির কারবার চালাত কেয়ামত। এলাকাবাসীরা আপত্তি জানালে কেরামত আলি হুমকিও দিত বলে অভিযোগ। এসবের মাঝেই সোমবার রাতে বারাসাতের নীলগঞ্জের মোচপোল-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৬০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বাজি নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

অন্যদিকে, এই বিস্ফোরণকাণ্ডে হত এবং আহত নাবালকদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন। আগামী তিনদিনের মধ্যে রাজ্যকে এবিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী যে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেই কারখানাটির আদেও কোনও সরকারি অনুমতি ছিল কি না, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন অনেকেই নিখোঁজ বলেই জানা গিয়েছে। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। ইতিমধ্যেই জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে। কেননা জঙ্গলের মধ্যেই ছিল বোমা তৈরির মূল কারখানা। ঝোপের মধ্যেও দেহের কাটা অংশ পড়ে থাকতে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। রবিবারই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআইডির টিম।

আরও পড়ুন            বারাসাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর মামলা খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে

প্রাথমিক তদন্তের পর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় আরও অনেক বেআইনি বাজি কারখানার হদিশ পেয়েছে সিআইডি। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বেআইনি বিস্ফোরক মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে। নীলগঞ্জ থেকে ২০০ কেজি অবৈধ বাজি উদ্ধার হয়েছে। যখন তখন ফের অঘটনের শঙ্কা মোচপোলে। প্রসঙ্গত, রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার নীলগঞ্জের মোচপোল। এলাকারই একটি বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ওই কারখানায় শব্দবাজি তৈরি হত। মুহূর্তের মধ্যে নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। জানা গিয়েছে, বেআইনি ওই বাজি তৈরির কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা মজুত থাকায় বিস্ফোরণে পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে কারখানাটি। রবিবার রাতের পর সোমবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলে। এদিন বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের বাড়ির টালির চাল, পেয়ারা গাছে আটকে যায় একাধিক দেহ। মাটির সঙ্গে মিশে যায় পাকা বাড়ি। এমনকী আশেপাশের বেশকয়েকটি বাড়িও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

About Post Author