সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ শপথ গ্রহণের সময় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের হাতে এসে পৌঁছল শপথ গ্রহণের চিঠি। জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথ গ্রহণের চিঠিটি ২১ সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছিল। আর রাজভবন থেকে সেটি পাঠানো হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর। ২৩ তারিখ শপথ গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সেই চিঠি নির্মলবাবু হাতে পান ২৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সোমবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও চিঠিটি হাতে পাওয়ার পরই নির্মলবাবু রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তথা শাসক দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা বিষয়টি জানান। এরপরই পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব বলেন, ‘একজন নতুন বিধায়ক হয়েছেন। তিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন। মানুষের কাজ করবেন। কিছু মানুষের শংসাপত্র তো দিতে পারবেন। কিন্তু রাজ্যপাল কেন এমন করছেন?’
আরও পড়ুন পুজোর আগে দারুণ রিচার্জ প্ল্যান নিয়ে এল এয়ারটেল
প্রসঙ্গত, ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণকে ঘিরে জটিলতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভার পরিবর্তে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সরাসরি ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে রাজ্যপাল ফোনও করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় ছাড়া মাঝে কোনও উপ নির্বাচন হলে জয়ী বিধায়কদের শপথের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব দেন রাজ্যপাল। এমনকী রাজ্যপাল নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণত, বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান বিধানসভাতেই হয়ে থাকে। তার পরিবর্তে রাজভবনে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান করতে চাইতেই বিতর্ক দানা বাঁধছে। ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাতের আবহ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজ্যের দাবি, ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরের দিনই জয়ী বিধায়কের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, দু সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সেই ফাইলে সই করেননি রাজ্যপাল। ধূপগুড়ির বিধায়ককে ফোন করে রাজ্যভবনে শপথ বাক্য পাঠ করার বিষয়টি সামনে আসার পর দেরির কারণ এবার বুঝতে পারছে রাজ্য। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য -রাজ্যপালের মধ্যে নতুন করে যে সংঘাতের সৃষ্টি হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছে। শাসক- বিরোধীদের কাছে ধুপগুড়ির উপ নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ধূপগুড়ির উপনির্বাচনে চার হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর নব বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠায় রাজ্য সরকার। অভিযোগ ওঠে, এতদিন পর্যন্ত রাজভবনেই সেই ফাইল পড়েছিল। রাজ্যপাল সেই ফাইলে এতদিন সই না করে পনেরো দিন ধরে ফেলে রেখেছিল।


More Stories
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ
“দত্তপুকুরের শাহজাহান “গোপাল কাঞ্জিলালকে আদালতে তোলা হল