Home » জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ অক্টোবরঃ রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলায় শুক্রবারই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গ্রেফতারির পর এবার বনমন্ত্রীর ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। জানা গিয়েছে, মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। দু’টি কোম্পানি বাঁকুড়ার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড বলেই জানা গিয়েছে। শুক্রবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্তসহায়ক অমিত ইডিকে জানিয়েছিলেন, ওই সংস্থা দুটি থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশে ২০ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। এরপরই দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা ফ্রিজ করে ইডি। রেশন দুর্নীতির তদন্তে গতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ২০টিরও বেশি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এই মোবাইলগুলি যেমন বনমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের রয়েছে, তেমনই বাকিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠদেরও মোবাইলও রয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই মোবাইল ডি-কোড করে তথ্যের সন্ধান শুরু করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এই মোবাইলগুলির মধ্যেই রেশন দুর্নীতির সমস্ত তথ্য লুকিয়ে রয়েছে বলেই দাবি ইডির।

এদিকে, শনিবার রেশন বণ্টন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া বাকিবুর রহমানের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। যেহেতু এখনও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে জেরা করতে পারেনি ইডি, তাই তদন্তের স্বার্থে এখনও বাকিবুরকেও জেরার প্রয়োজনীতা রয়েছে বলে মনে করেছে ইডি আধিকারিকরা। তাই জেলে বাকিবুর রহমানকে জেরা করার অনুমতি চাইল ইডি। সেই আবেদন মঞ্জুরও করে আদালত। সূত্রের খবর, জেল হেফাজতে গিয়ে বাকিবুরকে জেরা করতে হবে সেই কারণে তাঁর বয়ান রেকর্ড করারও প্রয়োজন আছে। আর বয়ান রেকর্ড করতে গেলে ল্যাপটপ সহ ডিজিটাল ডিভাইসের প্রয়োজন। এই সকল ডিজিটাল ডিভাইস ও প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ জেলে নিয়ে যেতে পারবেন গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন   কাজাখস্তানে কয়লার খনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত কমপক্ষে ৩২

প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। এসবের মাঝেই এবার বাকিবুরের বাকি সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়কগাছ ইডির আধিকারিকদের। সূত্রের দাবি, বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠার বেশি। সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের অন্তত ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। চালকল মালিক বাকিবুরের জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৩২ কাঠা। যার মধ্যে বেশিরভাগটাই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং বহরমপুরে। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

About Post Author