সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর: শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরসভা, নিয়োগ দুর্নীতিতে জর্জরিত গোটা রাজ্য। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য- রাজনীতি। এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ পাহাড়েও। ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু জানান, পাহাড়ে অনীত থাপার জিটিএ ৫০০- রও বেশি শিক্ষক নিয়োগ করেছে। কিন্তু এই নিয়োগ এসএসসির মাধ্যমে হয়নি। জিটিএ সরাসরি নিয়োগ করেছে। মাথা পিছু ১৫ লাখ করে টাকা নিয়ে এই নিয়োগ করা হয়েছে। কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অনীত থাপাকে ১৯২ জন শিক্ষক নিয়োগ করতে বলেছেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। এই নিয়োগও পুরোপুরি কেলেঙ্কারি বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন রাজ্যে ক্রমশ কমছে তাপমাত্রা পারদ, বাড়তে শুরু করেছে উত্তুরে হাওয়ার দাপট
এর আগেও দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের স্কুলে নিয়োগে পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, স্কুলে নিয়োগের নামে আবেদনকারীদের সঙ্গে টাকা তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। এই দাবিতে তিনি সিবিআইয়ের অধিকর্তা প্রবীণ সুদের কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। যদিও গত কয়েকদিন ধরে এই অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল পাহাড়। অনীত থাপার দাবি, পাহাড়ের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছেন অনীত থাপা।
ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দার্জিলিং ও কালিম্পং জুড়ে ভুয়ো টেট পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল জিটিএ। রাজ্য পেরিয়ে পাহাড়ে টেট কেলেঙ্কারির অভিযোগকে ঘিরে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে ২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড় জুড়ে টেটের ভার্চুয়াল ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করেছিল জিটিএ। তাতে পাহাড় ও ডুয়ার্সের প্রায় ১৪ হাজার পরীক্ষার্থী ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। উল্লেখ্য, পাহাড়ে শেষবারের মত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছিল। সেসময় ৩২ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছিল। মোট ১৪ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এমনকী কর্মসূত্রে ভিন্ন রাজ্যে থাকা যুবকরা পাহাড়ে এসে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা হওয়ার পরেও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। সেই সময় দলের সম্পাদক ছিলেন অনীত থাপা। হামরো পার্টির অজয় এডওয়ার্ডের অভিযোগ ছিল, বিধানসভা ভোটের জন্য টাকা তুলতে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এবার লোকসভা ভোটের আগেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সরব হচ্ছেন বিরোধীরা।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর