সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বর: ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় ইতিমধ্যেই খারিজ হয়েছে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ। এরপরই সাংসদ পদ খারিজের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এমনকী গোটা বিষয়টি নিয়ে অনলাইন মারফত তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে খারিজ হয়ে যায় দ্রুত শুনানির আর্জি। এবার সেই আর্জির বিরোধিতা করে প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হলেন মহুয়া মৈত্র। লোকসভা থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন মহুয়া। কিন্তু, এদিন আদালত সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এদিন, মহুয়ার পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি, প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের এজলাসে আবেদন করেছিলেন।
আরও পড়ুন Andre Russel: রাসেল-মেনিয়ায় বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড, গম্ভীর শাহরুখের জন্য স্বস্তির খবর
কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলাটি জরুরি শুনানির জন্য নথিভুক্ত নাও হতে পারে। জানা গিয়েছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে শীতকালীন ছুটির কারণে সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকবে। তার আগেই যাতে এই মামলার শুনানি হয়, তার জন্যই এদিন এই মামলার জরুরি শুনানি চেয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সাংসদ পদ খারিজের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। গোটা বিষয়টি নিয়ে অনলাইন মারফত তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। মোট ১৫ পাতার আবেদন তিনি জমা দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, যে পদ্ধতিতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। ১৫ পাতার রিপোর্টে মহুয়া উল্লেখ করেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে হেনস্তা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সাংসদ পদ খোয়ানোর পর সংসদের বাইরে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহুয়া মৈত্র।
যদিও বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদের পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধি। এমনকী সমাজবাদী পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টিও মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের প্রতিবাদ করেন। ওইদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘ওরা আমায় ৬ মাস ধরে হেনস্থা করবে। কিন্তু আমি প্রশ্ন করছি, আদানির ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কী হল, যা ইডি-সিবিআই এখনও তদন্ত করে উঠতে পারল না? আমি নাকি জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছি লগ ইন আইডি শেয়ার করে। এটাই আপনাদের বিনাশের শেষ। আমি আবার ফিরে আসব।’ উল্লেখ্য, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারওকে দেওয়ার। দুবাই থেকে পাসওয়ার্ড দিয়ে সাংসদের ইমেল অ্যাকাউন্টে লগ ইন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এথিক্স কমিটির সামনে মহুয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর বলে দেওয়া প্রশ্ন অন্য অফিসের এক কর্মীকে দিয়ে তিনি টাইপ করিয়েছিলেন। যতবার তিনি প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, ততবারই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে প্রশ্ন টাইপ করা হয়েছে। এরপরই এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রর ‘কঠোর শাস্তির’ সুপারিশ করছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর