সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: ফের রাজ্যে আয়কর অভিযান। বুধবার সাত সকালে সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দেয় আয়কর দফতর। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে বাড়িতে এদিন হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এদিন সকাল থেকেই তাঁর বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর বিধায়কের বাগনানের কাগজ কারখানায় আয়কর আধিকারিকরা তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তল্লাশি অভিযান চালাতেই বায়রন বিশ্বাসের কারখানা থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ শেষ হয় তল্লাশি অভিযান। আয়কর দপ্তর সূত্রে খবর, টানা ১৯ ঘণ্টা তল্লাশির পর তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি এবং বাড়ি লাগোয়া কারখানা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭০ লক্ষ টাকা। এমনকী তল্লাশি অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন শীতের পথে বাধা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ
যদিও উলুবেড়িয়ার বাগনানে বিধায়কের কাগজ কারখানায় এখনও তল্লাশি জারি রয়েছে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিধায়কের কারখানায় সিআরপিএফ জওয়ানদের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। সূত্রের খবর, বায়রনের বাবার বড় বিড়ির ব্যবসা রয়েছে। এমনকী তাঁদের বাড়িতেও রয়েছে বিড়ির বড় কারখানা। সেইমত বিধায়কের বিড়ির ফ্যাক্টারি, চা কোম্পানি, নার্সিংহোম ও ডাকবাংলার বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দেয়। বিড়ি শিল্প, নার্সিংহোম ছাড়া আরও কোনও ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা, সেই বিষয়টিও ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি বিধানসভার উপনির্বাচন। ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার প্রয়াণে এই কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচন হয়। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধানসভায় খাতা খুলেছিলেন বায়রন বিশ্বাস।
তারপর ৯০ দিন না কাটতেই সেই বায়রনই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শেষ পর্যন্ত যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিধানসভায় কংগ্রেসের এক মাত্র বিধায়ক ছিলেন বায়রন বিশ্বাস। স্বাভাবিকভাবেই, বাংলার বিধানসভায় ফের কংগ্রেসের খাতা বন্ধ হয়ে যায়। গত ২ মার্চ সাগরদিঘি ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছিল। দেখা যায়, তৃণমূলকে হেলায় হারিয়ে সাগরদিঘিতে জয় পায় কংগ্রেস। তবে হ্যাঁ, ঝালদা ইস্যুটির সঙ্গে এই কেন্দ্রের কোনও মিল না থাকলেও একটি কেন্দ্রের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কাটাচেড়ার সাক্ষী ছিল বাংলা সহ গোটা দেশের মানুষ। এখানে হিংসা ক্ষীণ, তবে যা জোড়াল হয়েছে, তা হল রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের তেজ। ঘাসফুল শিবির ও পদ্ম শিবিরের দ্বৈরথের ঘটনা শিরোনাম কেড়েছিল। আসরে নেমে হাল ধরতে দেখা গিয়েছিল কংগ্রেসকেও। বলে রাখা ভালো, এর আগে সমবায় নির্বাচন গুলিতে বাম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ বারবার প্রকাশ্যে এনেছিল শাসকদল তৃণমূল। কোথাও কোথাও সিপিএমের মিছিলে পদ্মশিবিরের প্রতীকও নজরে পড়েছে রাজ্যবাসীর।


More Stories
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান