Home » ওড়িশার বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল খেলেও ড্র ইস্টবেঙ্গলের, খলনায়ক সেই রেফারি

ওড়িশার বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল খেলেও ড্র ইস্টবেঙ্গলের, খলনায়ক সেই রেফারি

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৩ ডিসেম্বর: ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (Indian Super League) ফের ড্র ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC)। শুক্রবার যুবভারতীতে ওড়িশা এফসি-র বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল কার্লেস কুয়াদ্রাতের ছেলেরা। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে অপরাজিত থাকল লাল হলুদ ব্রিগেড।

খেলা অমীমাংসিত শেষ হলেও বছরের শেষ ম্যাচে দুরন্ত ফুটবল খেলল কলকাতার এই প্রধান। এই ম্যাচে জয় পেয়েই মাঠ ছাড়তে পারতেন ক্লেইটন, মহেশরা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের জয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় রেফারির দুটি সিধান্ত। ফলে নিশ্চিত তিনটি পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হতে হল ইস্টবেঙ্গলকে।

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে হারতে হয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে খলনায়ক হয়ে উঠেছিলেন রেফারি রাহুল গুপ্তা। একের পর এক লাল এবং হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। এগিয়ে গিয়েও সেই ম্যাচ হেরে ফিরতে হয়েছিল সবুজ মেরুনকে। খেলার শেষে রেফারির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সমর্থক থেকে প্রাক্তনরা। মুখ বদল হলেও আইএসএলে রেফারির মান রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই।

এবার খারাপ রেফারিংয়ের শিকার হতে হল কলকাতার আর এক প্রধান ইস্টবেঙ্গলকেও। ম্যাচের শেষ দিকে অন্তত দু’বার পেনাল্টি পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। প্রথমে ওড়িশার এক ডিফেন্ডারের ক্লিয়ার করা বল হাতে গিয়ে লাগে তার সতীর্থ মুর্তাদা ফলের। পেনাল্টির আবেদন জানান ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। রেফারি পেনাল্টি তো দেননি, উল্টে আগ্রাসী আবেদনের জন্য ইস্টবেঙ্গলের দুই ফুটবলারকে হলুদ কার্ড দেখান। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময় ফের পেনাল্টি পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ওড়িশার বক্সে ইস্টবেঙ্গলের পিভি বিষ্ণুর জার্সি টেনে ফেলে দেন জেরি। সেটাও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত! ছুটছে বুন্দেসলিগায় জাবি আলোনসোর লেভারকুসেন

ওড়িশা এফসি কঠিন প্রতিপক্ষ। এএফসি কাপের নকআউট পর্বে যোগ্যতা অর্জন করা ভারতের একমাত্র ক্লাব। চলতি মরশুমে সের্গিও লোবেরার দলের বিরুদ্ধে পাঁচ গোল হজম করতে হয়েছে মোহনবাগানকে। সেই দলের বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল ইস্টবেঙ্গল। যদিও খেলার শুরু থেকে প্রাধান্য ছিল ওড়িশারই। খেলা শুরুর প্রথম দিকে দু’টি সুযোগ পেয়েছিল তারা। প্রথমে বক্সের বাইরে থেকে ইসাক ভানলালরুয়াতফেলার শট রুখে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। লালচুংনুঙ্গার ভুলে ফের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শটও বাঁচিয়ে দেন প্রভসুখন। ১৪ মিনিটের মাথায় আবার গোলের সুযোগ তৈরি করে ওড়িশা। তবে আহমেদ জাহুর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। খেলার ১৬ মিনিটে প্রথম ইতিবাচক সুযোগ ইস্টবেঙ্গল। লালচুংনুঙ্গার বাড়ানো লম্বা পাস ক্লেটন সিলভা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। নাহলে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ২৭ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন নন্দকুমার। সেই শট দারুণ ভাবে দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন অমরিন্দর। এরপর আবার রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। এই সময়ে ওড়িশার আক্রমণ বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হল লাল হলুদ ফুটবলারদের। তবে গোলের খাতা খুলতে পারেনি ওড়িশা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। বাঁ দিক থেকে মহেশের বাড়ানো ক্রস গিয়ে লাগে ওড়িশার এক ডিফেন্ডারের হাতে। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা পেনাল্টির আবেদন করলেও, কর্ণপাত করেননি রেফারি। ৬১ মিনিটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ওড়িশা। বাঁ দিক থেকে রয় কৃষ্ণার ক্রস পায়ে লাগাতে পারেননি জেরি। না হলে পিছিয়ে পড়তে হত ইস্টবেঙ্গলকে।

তবে ৭৫ মিনিটের পর থেকে খেলার রাশ সম্পূর্ণ চলে যায় ইস্টবেঙ্গলের দখলে। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনতে থাকে তারা। তখন কার্যত দিশেহারা মনে হয়েছে ওড়িশার রক্ষণভাগকে। দুরন্ত ফুটবল খেলেন যুব দল থেকে উঠে আসা পিভি বিষ্ণু। যাকে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ। রক্ষণভাবে দলকে নেতৃত্ব দিলেন গত ম্যাচে নজরকাড়া হিজাজি মাহের। দক্ষতার সঙ্গে একদিকে রক্ষণ সামলালেন, অন্যদিকে আক্রমণের বল তার পা থেকে তৈরি হল একাধিকবার। আর যার কথা না বললেই নয়। তিনি শৌভিক চক্রবর্তী। মাঝমাঠে দলকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি। বিপক্ষের শক্তিশালী মাঝমাঠের বিরুদ্ধে পরিশ্রমী ফুটবল খেলেন এই বঙ্গ তনয়। এদিন যথার্থভাবে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন শৌভিক। তবে ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ-ফুটবলারদের একটাই আক্ষেপ, রেফারি যদি ইস্টবেঙ্গলের প্রতি এদিন একটু সদয় হতেন, তা হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেই পারত।

About Post Author