Home » দীর্ঘ টানাপড়েন, অবশেষে কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করল ইডি

দীর্ঘ টানাপড়েন, অবশেষে কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করল ইডি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ জানুয়ারি: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার ইডির জালে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। দীর্ঘ সাড়ে চার মাসের টানাপড়েনের শেষে এবার কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করল ইডি। বুধবার রাত ৯টা নাগাদ ফাইভ জি অ্যাম্বুল্যান্সে করে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে সিআরপিএফ জওয়ানের নিরাপত্তায় জোকা হাসপাতালে নিয়ে যায় ইডি। প্রথমে কাকুর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। তারপরেই তার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকেরা। এরপর এদিন দুপুরেই তাঁর গলার নমুনা সংগ্রহের জন্য ৪ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়। সূত্রের খবর, যে মেডিক্যাল বোর্ড রয়েছে তাতে একজন ভয়েস অ্যানালিস্ট ছিলেন।

আরও পড়ুন     রাজ্যে শুরু শীতের ব্যাটিং, উত্তুরে হাওয়ার আমেজ কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে

জানা গিয়েছে, আজই আদালতে ফরেনসিক রিপোর্ট পেশ করতে পারে ইডি। এদিন এসএসকেএমের কার্ডিওলজি বিভাগের কেবিন থেকে বার করা হয় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে। হুইলচেয়ারে করে তাঁকে বার করে তোলা হয় অ্যাম্বুল্যান্সে। এরপর ইডির তদারকিতে ফাইভ জি অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই জোকার ৪ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য মেডিক্যাল প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করেন। অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা এসএসকেএম ও জোকার দুই চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা রেকর্ড করতে থাকেন। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের পর রাতেই তাঁকে পিজির কার্ডিওলজিতে ফেরত দেওয়া হয়। ইডির দাবি, নিয়োগ মামলায় বাজেয়াপ্ত করা নথি থেকে একটি কণ্ঠস্বর তাঁরা পেয়েছেন। ওই কণ্ঠস্বর কাকুর হলে নিয়োগ মামলার তদন্তের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

 

সেই সূত্র ধরেই কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বরের পরীক্ষার জন্য এর আগে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে ইডির অভিযোগ, এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর অসহযোগিতার জন্যই তাঁরা কাকুর কণ্ঠস্বর পরীক্ষা করতে পারছেন না। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর কন্ঠস্বরের নমুনা নিতে কেন দেরি হচ্ছে তা নিয়ে এর আগে মঙ্গলবার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বুধবার তিনি তাঁর এজলাসে ইডির জয়েন্ট ডিরেক্টরকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, গলার স্বরের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করতে হয় তা আদালতে এসে জানাতে হবে কোনও চিকিৎসককে। বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারপতি সিনহার রুদ্ধদ্বার এজলাসে সেই শুনানি শেষ হয়। তারপরই সব নজর গিয়ে পড়ে এসএসকেএম হাসপাতালের উপর।

About Post Author