সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ জানুয়ারি: কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই সোমবার মকর সংক্রান্তির সকালে মনস্কামনা পূরণে গঙ্গাসাগরে শুরু হল গঙ্গাস্নান। গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের উদ্দেশে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের ভিড় জমেছে। সাগরে স্নানের মাহেন্দ্রক্ষণ সকাল ৯টা ১৩ মিনিট। যদিও কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই রবিবারই মেলায় পৌঁছে গিয়েছেন ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী। রবিবার মাঝরাত থেকেই শুরু হয়েছে স্নান। চলবে সোমবার রাত ১২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত। সোমবার কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেবেন লক্ষাধিক পুণ্যার্থীরা। কার্যত সেকারণেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে মেলা চত্বর এবং তার আশেপাশের এলাকা। আকাশপথে এবং জলপথে চলছে কড়া নজরদারি। গঙ্গাসাগর জুড়ে তৈরি করা হয়েছে পুলিশ ক্যাম্প। উপকূলরক্ষী বাহিনী, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স–সহ প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

আরও পড়ুন মকর সংক্রান্তিতে উত্তুরে হাওয়ার আমেজ কলকাতায়, জেলায় জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
ড্রোন ওড়ানোর পাশাপাশি, স্পিড বোট ও হোভার ক্রাফটে চড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও নৌ-সেনা। অন্যদিকে, মকর সংক্রান্তির সকাল থেকেই কুয়াশার চাদরে মুড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা। ঘন কুয়াশার জেরে বহু যানবাহন বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে গঙ্গাসাগর থেকে কচুবেড়িয়ার মধ্যে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কাকদ্বীপ থেকে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে যে ভেসেল পরিষেবা চলাচল করে, সেটিও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। যার কারণে গঙ্গাসাগরে আগত পূণ্যার্থীদের প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে জোরদার করা হয়েছে সাগরমেলার নিরাপত্তা। জলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি চলছে। জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলায় এই বছর থেকে চালু হয়েছে কিউ আর এবং বারবোড বেসড ওয়াটারপ্রুফ হাতের ব্যান্ড। যার মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

মেলায় আগত সমস্ত প্রবীণ এবং শিশুদের বিনামূল্যে কিউ আর রিস্টব্যান্ড বাফার জোন থেকে দেওয়া হচ্ছে। মূলত কোনও মানুষ যাতে মেলায় এসে নিখোঁজ না হয়ে যান, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের গঙ্গাসাগরের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল সাগর আরতি। পুণ্যস্নানের সময় ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ২২৫০টি সরকারি বাস, ৫০০ বেসরকারি বাস চালু থাকবে। ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ চলবে। ১০টি ফায়ার স্টেশন, ২৫টি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি চলেছে।’ প্রসঙ্গত,প্রতিবছর সাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তার মধ্যে অবাঙালি পূণ্যার্থীদের সংখ্যা বেশিই থাকে। তবে এর আগে দুবছর অতিমারির কারণে বিধিনিষেধ থাকায় সাগর মেলায় তেমন ভক্ত সমাগম হয়নি। চলতি বছরে আর করোনাবিধি না থাকায় ভিড় অনেকটাই বেড়েছে।


More Stories
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ