Home » হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি ইস্যুতে ইডির কাছে জবাব তলব ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের

হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি ইস্যুতে ইডির কাছে জবাব তলব ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারিঃ জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গত বুধবার প্রায় সাত ঘণ্টা ইডির ম্যারাথন জেরার পরে অবশেষে গ্রেফতার হন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন(Hemant Soren)। জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফাও দেন তিনি। যদিও ইডির এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন হেমন্ত সোরেন। এসবের মাঝেই এবার হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি নিয়ে ইডির কাছে জবাব তলব ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনে গ্রেফতারি তথা চম্পাই সোরেনের আস্থাভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যের হাওয়া এখন ভারী। তারই মাঝে জবাব তলব ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের। হেমন্ত সোরেনকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। 

আরও পড়ুন   জঙ্গি হামলায় ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান, মৃত কমপক্ষে ১০ পুলিশকর্মী

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতারির প্রতিবাদে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের সদস্য বিরোধী দলের সাংসদরা রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। সাংসদদের হইহট্টগোলের জেরে অধিবেশনের কাজ ব্যাহত হয়। শেষ পর্যন্ত অশিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বিরোধী দলের সাংসদরা। এদিন বাজেট অধিবেশন শুরু হতেই হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি নিয়ে সংসদে সরব হন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন। এমনকী ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘ইডি যেকোনও অজুহাতে বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করছে। এখনও অবধি ইডি একটাও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এটা ভাল যে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল চম্পাই সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। বিজেপি শাসক জোট ভাঙানোর চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরই পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে সেনাদের জমি বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জমি হাতিয়ে কোটি কোটি টাকা বেআইনি লেনদেনের কথাও জানতে পারে ইডি। সেই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মাফিয়া জড়িত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রে খবর। এই মামলাতেই রক্ষাকবচ পেতে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টেও গেছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট সোরেনের আবেদন খারিজ করে দেয়। দুটি পৃথক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে ইডি। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে ঝাড়খণ্ডের খনি কেলেঙ্কারি মামলায় হেমন্ত সোরেনের আপ্তসহায়ক পঙ্কজ মিশ্রকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি পঙ্কজ মিশ্রর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ আরও ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেআইনি খনি ও আর্থিক তছরুপ মামলায় নাম জড়ায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের। নিয়ম ভেঙে নিজের নামে খনির লিজ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু জোর বিতর্ক। যার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর পদও খোয়াতে বসেছিলেন হেমন্ত সোরেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আস্থা ভোটে তিনি জয়ী হন।

About Post Author