স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ ফেব্রুয়ারি: চার দিনেই যবনিকা পড়ল রাজকোট টেস্টের। কাজে এল না ইংল্যান্ডের বহু চর্চিত বাজবলের ক্রিকেট। ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে তৃতীয় টেস্টে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন বেন স্টোকসরা। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সামনে ৫৫৭ রানের লক্ষ্য বেধে দেয় ভারত। তবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় ইংল্যান্ডকে। মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। ৪৩৪ রানে ম্যাচ জিতে নেন রোহিত শর্মারা। টেস্ট ক্রিকেটে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ রানে জয়। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৭২ রানের জয় ছিল ভারতের সর্বোচ্চ রানের জয়ের রেকর্ড। রাজকোটে সেই রেকর্ড ভেঙে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেন-ইন-ব্লু ব্রিগেড।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের প্রশিক্ষণে ও বেন স্টোকসের নেতৃত্বে আগ্রাসী টেস্ট ক্রিকেট খেলাকে ইংরেজরা নাম দিয়েছিলেন বাজবল। ২০২২ সালে ইএসপিএন ক্রিক ইনফো ইউকের সম্পাদক অ্যান্ড্রিউ মিলার এই নামটি দিয়েছিলেন। তবে এই নাম নিয়ে যে পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে এত খোঁটা শুনতে হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নি। সম্প্রতি শব্দটি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন স্বয়ং ম্যাককালাম। যার ডাকনাম ‘বাজ’ থেকে এই বাজবলের উৎপত্তি। তবে তাতেও কাজ হয়নি। ইংল্যান্ড জিতলে বা হারলে এই শব্দটি অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে সামনের সারিতে। সদ্য ভারতের বিরুদ্ধে রাজকোট টেস্টে দুরমুশ হওয়ার পর এই শব্দটি নিয়ে কথা হবে এটাই স্বাভাবিক। খেলায় হারজিত থাকে। তবে বিশ্বের অন্যতম টেস্ট খেলিয়ে দেশের ইনিংস ৩৯.৪ ওভারে গুটিয়ে গেলে প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় বাজবলের পথ থেকে সরে আসায় ইংল্যান্ডকে ডুবতে হল বলে দাবি করা হচ্ছে। কারণ রাজকোটের ব্যাটিং সহায়ক পিচে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে রান করে গিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটাররা।
আরও পড়ুন: Yashasvi Jaiswal: বাজবলের বিরুদ্ধে রাজকোটে যশবল, দ্বিশতরান করে নয়া নজির যশস্বীর
রবিবার ভারতীয় ইনিংসের শুরু করেন শুভমন গিল ও কুলদীপ যাদব। ব্যক্তিগত ৯১ রানের মাথায় ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন গিল। কুলদীপ আউট হন ২৭ রানে। পিঠের চোট নিয়ে শনিবার খেলতে পারেননি যশস্বী। রবিবার গিল আউট হতে মাঠে নামেন তিনি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তরুণ ওপেনারকে। তাকে সঙ্গ দেন সরফরাজ। তিনিও প্রথম ইনিংসে যেখানে রান আউট হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে শুরু করেন। দুজনে মিলে অতি দ্রুত ভারতের স্কোরবোর্ডকে নিয়ে যান বিপক্ষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিজের দ্বিশতরান পূর্ণ করেন যশস্বী। রোহিত শর্মা ইনিংস ডিক্লেয়ার দেন ৪৩০ রানের মাথায়। তখন যশস্বী অপরাজিত ছিলেন ২১৪ রানে। সরফরাজ অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫৭ রান তাড়া করে জয়ের নজির প্রায় নেই বললেই চলে। তবে আশা করা হয়েছিল ভারতের ব্যাটারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করবেন বেন স্টোকসরা। তবে রানের পাহারের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে ইংল্যান্ডের। জ্যাক ক্রলি, ওলি পোপ, জো রুট ও জনি বেয়ারস্টো প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন নামমাত্র রান করে। ৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়ে যায় ইংল্যান্ড। বল হাতে বিপক্ষকে বেগ দিচ্ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ জুটি। অষ্টম উইকেটে লড়াই করেন বেন ফোকস ও টম হার্টলি জুটি। শেষের দিকে বেশ কয়েকটি বড় শট থেলেন মার্ক উড। তবে ম্যাচ জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে ৫ উইকেট নেন জাডেজা। প্রথম ইনিংসে শতরানের পাশাপাশি ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন জাদেজা।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার