সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ মার্চ: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছে ইডির বিশেষ আদালত। এবার রেশন দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় চার্জশিট পেশ করতে চলেছে ইডি। আগামী মঙ্গলবার রেশন দুর্নীতি মামলার চার্জশিট পেশ করার সম্ভবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতির টাকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত থেকে কীভাবে শঙ্করের মাধ্যমে ঘুরপথে বিদেশে পাচার হয়েছে তাঁর উল্লেখ থাকবে চার্জশিটে। এছাড়াও বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্য এবং তাঁর বিভিন্ন ফোরেক্স সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করবে ইডি। শঙ্কর ছাড়াও, তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজনের নাম চার্জশিটে উল্লেখ থাকার সম্ভবনা রয়েছে। এর আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং বাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে ইডি। সেখানে ২০ হাজার কোটি টাকা রেশন দুর্নীতি মামলায় বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেই উল্লেখ করা হয়। ইডি-র দাবি, সেই টাকা শঙ্কর আঢ্য নামে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই সূত্রেই শঙ্করকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন শনি ও রবিতে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল থাকছে না লোকাল ট্রেন, স্বাভাবিক থাকবে ট্রেন চলাচল
ইতিমধ্যেই রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাকিবুর রহমান এবং শংকর আঢ্যর পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইডির হাতে গ্রেফতার হন ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ দাস। রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্কর আঢ্যর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বিশ্বজিৎ দাসের নাম উঠে আসে। জানা গিয়েছে, ধৃত বিশ্বজিতের একদিকে যেমন সোনার ব্যবসা, মানি এক্সচেঞ্চের ব্যবসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে ইমপোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যবসা। বিশ্বজিৎ দাসের মাধ্যমেই বাংলাদেশে রেশন দুর্নীতির টাকা পাচার হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তে শুরু করে ইডি। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আলাদাভাবে এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী, যাঁদের আন্তর্জাতিক ব্যরবসা ও বিদেশে ফোরেক্স-সহ অন্যান্য সংস্থা রয়েছে, তাঁদের রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা পাচারের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। এরকম আরও অন্তত চারজন ব্যববসায়ীর মাধ্যামে টাকা পাচার হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদেরই সন্ধান চালাচ্ছে ইডির আধিকারিকরা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে বিশ্বজিতের। ঢাকায় একটি নামী কাপড় বিপণির মালিক এই ব্যবসায়ী। আর কাপড় কেনাবেচার মাধ্যমেও রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছয়। দুবাইয়ে বিশ্বজিতের তিনটি সংস্থার মধ্যে সোনা লেনদেনের কারবারের সংস্থাও রয়েছে। রেশনের চাল ও গম থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল টাকা সোনার মাধ্যরমেও পাচার হয়েছে বিদেশে। বিশ্বজিতের ফোরেক্স সংস্থার মাধ্যরমেও দুর্নীতির প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ইডির দাবি, এখনও পর্যন্ত রেশনে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যার মধ্যে ২৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল দুবাইয়ে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে এই কারবার চলছে বলেই জানা গিয়েছে। শঙ্কর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমেই ওই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলে দাবি ইডির। একই সঙ্গে ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আলাদাভাবে এমন কয়েকজন ব্যলবসায়ী, যাঁদের আন্তর্জাতিক ব্যেবসা ও বিদেশে ফোরেক্স-সহ অন্যা ন্যা সংস্থা রয়েছে, তাঁদের রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা পাচারের জন্যে বেছে নিয়েছিলেন।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ