সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ মার্চঃ সন্দেশখালিকাণ্ডে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে শেখ শাহহাজানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে। সূত্রের খবর, ইডি অফিসারদের উপর হামলার ঘটনায় ন্যাজাট থানায় দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এছাড়াও বনগাঁ থানায় আরও একটি এফআইআর দায়ের হয়। এবার এই তিনটি মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে খারিজ মহুয়ার আবেদন
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকাণ্ডে বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হতেই জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিল সে। রাজ্য পুলিশ আদালতে সেই নথিও জমা দিয়েছিল। আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ ছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ শাহজাহানের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সন্দেশখালিকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১১টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা, তেমনই রয়েছে মানবপাচার ও দেহব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে, মিনাখাঁ থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩৪১/ ১৮৬/ ৩৫৩/ ৩২৩/ ৪২৭/ ৩৭০/ ৫০৬/৩৪- মোট ১১ টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার রুজু করে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। এদিন পুলিশ শাহজাহানের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল। তবে বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সাদা কুর্তা পাজামা পরে আদালতে হাজির হতে দেখা গিয়েছে সন্দেশখালির ‘বাঘ’কে। গোটা আদালত চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি শাহহাজানের বাড়িতেও প্রচুর পুলিশ ও RAF মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্দেশখালির ২৩ জায়াগায় জারি ছিল ১৪৪ ধারা


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন