সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ মার্চঃ মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন সকাল এগারোটা নাগাদ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হাইকোর্টে ঢোকেন। তারপরই বিচারপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এদিন সকাল ১০টা ৩৫ নাগাদ জিপিও থেকে চিঠি পাঠিয়ে ইস্তফা দেন তিনি। প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছেন ইস্তফাপত্র। এমনকী রাষ্ট্রপতির কাছেও ইমেল মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই এদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ইতিমধ্যেই আগামী অগাস্ট মাসেই ছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের অবসর গ্রহণের দিন। তবে তাঁর আগেই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে তাঁর শেষ দিন ছিল। এদিন কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আইনজীবী কমলেশ ভট্টাচার্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে বলেন, ‘ডার্ক ডে ফর আস।’ এদিকে, সোমবারই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সব মামলা তাঁর এজলাস থেকে সরানো হয়েছে। মামলাগুলি গিয়েছে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে। অন্যদিকে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি কোন দলে যোগদান করতে চলেছেন? তা নিয়ে বিস্তর চর্চাও শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক কিছু রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তার কারণেই বাংলায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে আছে। যদিও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের জন্য শাসক দলের নিশানায় পড়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তিনি বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতির ময়দানে নামছেন বলেও জানিয়েছিলেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরই খোঁচা দিতে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি। রবিবার বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার আমি পদত্যাগ করব। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠাব। এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার জন্য রাজ্যের শাসক দলকে অভিনন্দন। রাজনীতিতে যোগ দেব কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ক্ষমতাসীন দলের নানা মামলায় আমার রায় পছন্দ না হলেই যেভাবে আমার বিরুদ্ধে আক্রমণ হয়েছে, আমাকে বলা হয়েছে, ময়দানে নামতে। তা ভেবেই আমি ময়দানে নামতে চাই। আমি কোন দলে যাব বা না যাব তার থেকেও বড় কথা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অবস্থার মর্যাদা তলানিতে ঠেকেছে। কৃষি, শিল্পেও অবনতি। এখনও বহু দফতরে বহু দুর্নীতি উদঘাটিত হয়নি। সেগুলি উঘাটন হলে বোঝা যাবে কী পরিমাণ দুর্নীতির রাজ্যে বাস করছি। চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসছে এই অন্ধকারের থেকে মুক্ত হতে হবে। মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।দেখা যাক।’
আরও পড়ুন উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশে বাধা, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ
আর বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের পরই তাঁকে কটাক্ষ করেছেন যুব তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। কটাক্ষের সুরে রবিবার দেবাংশু সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, আমরা বহু আগেই বলেছিলাম অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একজন রাজনৈতিক বোড়ে। আমাদের অভিযোগকে মান্যতা দেওয়ার জন্য অভিজিৎ বাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ। শিক্ষক নিয়োগ সহ গোটা দুর্নীতির অভিযোগটাই আজ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল। ভোঁতা হয়ে গেল শেষ দুই-আড়াই বছরের যাবতীয় আলোচনা, সমালোচনা..।’ এখন দেখার বিষয় এটাই যে, কোন রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা