সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ মার্চঃ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা না হলেও ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। পশ্চিমবঙ্গে জোটের তোয়াক্কা না করে ইতিমধ্যেই ৪২ টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে তৃণমূল। ২০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপিও। বাম -কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা থাকলেও এখনোও পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসু রুপ ধারণ করেনি। ফলে একটা অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হয়ে রয়েছে বাম -কংগ্রেস জোটের। র পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তুলে দেন। এছাড়া মানুষের হাতে তুলে দেন কন্যাশ্রী ,রূপশ্রী, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড , সবুজ সাথী এবং প্রতিবন্ধীদের শংসাপত্র। পাশাপাশি তিনি জানান, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ৬৪৭ টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস এদিনই তিনি করেছেন। এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখার শুরুতেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের ঝাঁজ ছিল অনেকটাই বেশি। সোমবার সারা দেশে চালু হয়েছে সিএএ আইন। কার্যত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতারণার ,ছলনা ,বঞ্চনা এবং নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া চক্রান্ত করছে বিজেপি। সিএএ -কে পুরোপুরি ভাঁওতা বলেও অভিহিত করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরও জানান যে, ‘এই আবেদন করার পর এনআরসি করা হবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বাংলায় এটা হতে দেব না।’ এদিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটকে কাছে রাখার প্রচেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইচ্ছা করেই গতকালকে দিনটা বেছে নেওয়া হয়েছে, কেননা হচ্ছে রমজান। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন আফগানিস্তান ,পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে কেন আনা হবে? শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার বাদ কেন? সিএএ হল মানবিকতার বুকে অপমান। এদিন মতুয়াদের প্রতিও তিনি বার্তা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা ফর্ম ফিলআপের সময় বাবার জন্মের শংসাপত্র আনতে বলেছে আমার কাছেও বাবার জন্মের শংসাপত্র নেই, কতটা ভয়ংকর বুঝতে পারছেন? তফসিলি আদিবাসী, মতুয়াদের সংরক্ষণ নিয়ে কি হবে তাও পরিষ্কার করে বলা নেই। পাশাপাশি বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, সিএএ হলো বাংলাকে ভাগ করার খেলা। মুসলিম, নমঃশূদ্র এবং বাঙালিদের তাড়ানোর খেলা। আমরা এটা করতে দিচ্ছি না, দেব না।
বক্তব্যের শেষের দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত হুঙ্কার দিয়ে বলেন, সিএএ আইন ছুড়ে ফেলে দিন, আপনারা বহাল তবিয়তে থাকবেন , নাগরিকত্ব কাড়তে এলে আমরা বুঝে নেব। উদ্বাস্তুদের আমরা পাট্টা দিচ্ছি ,তাঁদের আর উদ্বাস্তু হয়ে থাকতে হবে না। এদিন হাবড়ার জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ এবং তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝিয়ে দিচ্ছিল বিজেপিকে এ রাজ্যে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ শাসক দল। এদিনের ভাষণে বারংবার সিএএ প্রসঙ্গ টেনে এনে কার্যত মুসলিম সংখ্যালঘু ভোটকে নিজের আয়ত্তে রাখার প্রচেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সিএএ কার্যকর হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত মতুয়া সম্প্রদায়কে তাদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা অনেকটাই নির্বাচনী সভার রূপ নিয়েছিল। ফলে আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের ঝাঁঝ যে আরও বৃদ্ধি পাবে, সে কথাও মানছে রাজনৈতিক মহল।
#latestbengalinews
#CAA


More Stories
মধ্যমগ্রাম থেকে ১৭ বছরের ছাত্র নিখোঁজ ,প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার
কুমোরটুলির পর ঘোলা !ট্রলি ব্যাগে বন্দি এক ব্যক্তির দেহ!
পুলিশ পরিচয় দিয়ে এবার মাছ বাজারে তোলাবাজি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ তৃণমূল কর্মী