সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ মার্চঃ লোকসভা ভোটের টিকিট না পেয়ে আগেই তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বারবার আশ্বাস দিলেও দল তাঁকে গুরুত্ব দেয়নি। এরপরই বুধবার বাবুন জানালেন, হাওড়া থেকে নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়বেন তিনি। আর এমন বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা জানিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী তথা তাঁর দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাবুনের সঙ্গে আজ থেকে আমি সব সম্পর্ক শেষ করলাম। হাওড়া সদর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হতে না পেরে বাবুন যা করছেন বা বলছেন, তাতে মা-মাটি-মানুষের পরিবার ক্ষুব্ধ। ও প্রত্যেকটা ইলেকশনে অশান্তি করেছে। লোভীদের পছন্দ করি না। আজ থেকে আমার ভাই হিসেবে ওর পরিচয় দেবেন না। কোনও সম্পর্ক নেই। আমি পরিবারতন্ত্র করি না, মানুষতন্ত্র করি।আমাদের দল যাকে প্রার্থী করেছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত।’
উল্লেখ্য, হাওড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে এবারও টিকিট পেয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই প্রসূনের বিরুদ্ধেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাবুন। বুধবার অভিমানী বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ রাজনীতিতে অনেক কিছুই হয়। ২০১৯ এবং ২০২১ সালেও তাঁকে লোকসভার টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই বছরও আশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবারও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। কী আর বলব…।’ একইসঙ্গে প্রসূনের টিকিট পাওয়া প্রসঙ্গে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা ভোটের প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নয়। মোহনবাগান ক্লাবের এজিএমের সময় আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন প্রসূন। আমাকে অপমান করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে আমার প্রচুর অ্যালার্জি আছে। হাওড়ার মানুষ ওঁকে মেনে নিচ্ছেন কি না জানি না। কিন্তু আমি বলতে পারি, এই প্রার্থী ঠিক হয়নি। দিদিকে কিছু জিনিস জানিয়েও লাভ হয়নি। প্রথম থেকে বলা হয়েছে ওঁকে বাদ দিয়ে অন্যকে প্রার্থী করলে হাওড়ার মানুষ অন্যভাবে গ্রহণ করবেন।
প্রসূনের বিরুদ্ধে বাবুনের অভিযোগ, এমপিল্যাডের টাকা এলাকার মানুষের জন্য ঠিকমতো খরচ করতে পারেননি প্রসূন। কাজ হয়নি বলে মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও নেই। তাঁর থেকে অনেক যোগ্য প্রার্থী হাওড়ায় রয়েছে।‘ এরপরই রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে বাবুন বলেন, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাইনি কখনও, যাবও না। ১৯৮১ সাল থেকে দলের সঙ্গে জড়িয়ে। কখনও দলের বিরুদ্ধে যাইনি। দিদিকে বলে, দিদির আশীর্বাদ নিয়েই ভোটে দাঁড়াব।’ এর আগে মঙ্গলবারই দিল্লিতে যান স্বপন। এরপরেই তীব্র শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার শুরু হয় তিনি নাকি বিজেপিতে যোগদান করছেন। যদিও সেই জল্পনায় ইতি টেনে মোহনবাগানের ফুটবল সচিব বাবুন জানিয়ে দেন, যতদিন দিদি বেঁচে আছেন, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন না।


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?