সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মঙ্গলবার নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জমা দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে নির্বাচন কমিশন। এমনকী সেই বন্ডের ক্রেতা এবং প্রাপক দলের লম্বা তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে কমিশন। কত তারিখে কোন সংস্থা কোন দল কত টাকার বন্ড কিনেছিল, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এই তথ্য অসম্পূর্ণ, এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। জানা গিয়েছে, নির্বাচনী বন্ডে কোন সংস্থা থেকে কোন দলে চাঁদা গিয়েছে, তার পৃথক উল্লেখ নেই। সেইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট যে ‘ইউনিক নম্বর’-এর কথা বলছে, সেই তথ্যও এসবিআই জমা দেয়নি আদালতে। সূত্রের খবর, নির্বাচনী বন্ডের নম্বর না প্রকাশ করার জন্য এবং আদালতের আগের রায় সম্পূর্ণরূপে মেনে না নেওয়ার শুক্রবার এসবিআই-কে(SBI) ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছেন,বিগত ৫ বছরের সমস্ত ডোনেশনের তথ্য জমা দিতে হবে। আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে তাঁদের জবাব তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন Sheikh Shahjahanঃ সন্দেশখালিকাণ্ডে শেখ শাহজাহানকে ফের ৮ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ আদালতের
প্রসঙ্গত, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার থেকে দেওয়া তথ্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে বিজেপির ঘরে ঢুকেছে ৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা।এই তালিকা থেকে আঞ্চলিক দলও কিন্তু পিছিয়ে নেই। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশ্যে আনা তথ্যের হিসেব অনুযায়ী, দ্বিতীয় সবথেকে লাভবান দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী বন্ডের থেকে তৃণমূলের লাভ হয়েছে ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বাধিক লাভবান দল কংগ্রেস। কংগ্রেসের ঘরে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে ঢুকেছে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এই গেল সবথেকে বেশি লাভবান তিন দলের কথা। এছাড়া আরও বেশ কিছু আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলও দারুণভাবে লাভবান হয়েছে। যেমন, হাজার কোটির গ্রুপে রয়েছে তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভারত রাষ্ট্র সমিতিও। কেসিআরের দলের নির্বাচনী বন্ড থেকে লক্ষ্মীলাভ হয়েছে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। পিছিয়ে নেই ওড়িশার নবীন পট্টনায়েকের দলও। নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে পেয়েছে ৭৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া, ডিএমকে, শিবসেনা, তেলুগু দেসম পার্টি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, এনসিপি, জেডিইউ, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিও নির্বাচনী বন্ড থেকে কম-বেশি লক্ষ্মীলাভ করেছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে এক যুগান্তকারী রায়ে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছিল এবং এই প্রকল্প বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেসময় শীর্ষ আদালত বলেছিল, এই প্রকল্প নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। কারা কারা নির্বাচনী বন্ড কিনেছে এবং কোন কোন রাজনৈতিক দল সেই বন্ড পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য এসবিআইকে ৬ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের মাত্র ২দিন আগে আদালতকে ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল, এই তথ্য সংগ্রহ করতে, যাচাই করতে এবং প্রকাশ করতে কিছুদিন সময় লাগবে। এরপরই এসবিআই-এর পক্ষ থেকে আদালতের কাছে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। তার আগেই লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে এই তথ্য তারা দিতে পারবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছিল এসবিআই। এরপর গত সোমবার স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছিল, ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের আদেশ মানা হয়নি। আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়। তার একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচনী বন্ড সম্পর্কে তথ্য তুলে দেয় স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।
#SConElectoralBond
#latestbengalinews


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?