সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ মার্চঃ দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় একাধিকবার সমন এড়ানোর পর ইতিমধ্যেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার কেজরিওয়ালের এই গ্রেফতারির নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব। পাশাপাশি কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা নিয়েও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেনেভা। দিল্লিকে সতর্ক করে উদ্ভুত এই পরিস্থিতিকে ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রসংঘ। আন্তর্জাতিক ওই সংস্থার মহাসচিব স্টিফেন দুজারিক কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা আশা করব ভারতে প্রত্যেকের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন ভোট দিতে পারেন অবাধ এবং সুষ্ঠু ভাবে। শুধু কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নয়, কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুলেছিল জার্মানি ও আমেরিকা। জার্মানির তরফে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে মন্তব্য করে বলা হয়েছিল, তারা আশা করে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ এবং ‘মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হবে। যদিও এই মন্তব্যের জেরে ভারতের জার্মান দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক জর্জ এনজ়ওয়েলারকে তলব করেছিল বিদেশ মন্ত্রক।
প্রসঙ্গত, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবারই ইডির হাতে গ্রেফতার হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের মুখে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায় গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দিল্লির বাসভবনে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসাররা। ১২ জনের একটি দল পৌঁছে যায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে। পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। তখনই আশঙ্কা করা হয়েছিল গ্রেফতার করা হতে পারে দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। রাত ন’টার পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গ্রেফতার হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। বাজেয়াপ্ত করা হয় তার দুটি মোবাইল ফোন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশে জারি হয় ১৪৪ ধারা। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ চলে আম আদমি পার্টির সমর্থকদের।
এদিকে, অরবিন্দ গ্রেফতার হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তাঁকে সরানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। আগামীকাল সেই আর্জি খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের পর থেকেই বলা হয়েছিল, জেল থেকেই সরকার চালাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। যেখানে বলা হয়, দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী পদে কাজ করার মর্যাদা হারিয়েছেন কেজরিওয়াল। কিন্তু, এদিন সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এদিন দিল্লি হাইকোর্টের অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনমিত প্রিতম সিং অরোরার বেঞ্চ বলেন, ‘ এটা প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রপতির বিচার্য বিষয়। আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী পদে কাজ চালানোর বিষয়ে কোনও আইনি বিধিনিষেধ নেই। যদি কোথাও সাংবিধানিক গাফিলতি ঘটে, তা দেখার জন্য রাষ্ট্রপতি-রাজ্যপালরা আছেন। আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবে না। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলি রয়েছে।’
# UNonArvindKejriwalarrest
#latestbengalinews
#ArvindKejriwal


More Stories
“সকল চুক্তির জননী ” – ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি
মানুষের কাজকর্ম হয়ে যাবে ঐচ্ছিক, কেন বলছেন ইলন মাস্ক!
এবার সেনাবাহিনীর কনভয়ে হামলা! হামলা চালালো বালোচ বিদ্রোহীরা, ৯০ জন পাকসেনার মৃত্যু!