সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ এপ্রিল: বারাসাতে আতঙ্কের অবসান। মহিলাদের বুকে ছুরি মারার ঘটনায় ধৃত আততায়ী। নীলগঞ্জের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কর্মকার ওরফে বিশু এই ঘটনার খলনায়ক। যদিও পুলিশ এখনও বিশুর উদ্দেশ্য নিয়ে ধন্দে। শনিবার ধৃত বিশ্বজিৎকে নিয়ে ঘটনার পুননির্মাণ (Reconstruction) করল বারাসাত পুলিশ।

ছোটবেলায় অনেকেই স্বপন কুমারের রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ পড়েছেন। গভীর রাতে বিছানায় শুয়ে স্বপন কুমারের রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ পড়তে পড়তে উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দেয়নি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। সম্প্রতি একদিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর শহর বারাসাতে। রাত ৮ঃ০০ টায় হাতে ছুরি নিয়ে বাইক চালিয়ে বের হত আততায়ী তার শিকারের সন্ধানে। মূলত লক্ষ্য ছিল একাকী পথ চলতি মহিলা । আর শিকার সামনে পেলেই মুহূর্তের মধ্যে চলন্ত বাইক থেকেই হাত বাড়িয়ে মহিলার বুকে ছুরি বসিয়ে দিত আততায়ী। বিখ্যাত রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস লেখক স্বপন কুমার বেঁচে থাকলে অবশ্যই ‘বারাসাতের আতঙ্ক’ বলে উপন্যাস হয়তো লিখে ফেলতেন। সেই আততায়ী অবশেষে ধরা পড়েছে পুলিশি তৎপরতায়। তাঁর পরিচয়ও সর্বসমক্ষে এনেছে প্রশাসন। আতঙ্কের অবসান ঘটেছে বারাসাত শহর জুড়ে।
কিন্তু এটাও ঠিক যে এই আতঙ্কের গল্প বহুদিন ধরে বারাসাতবাসীর মুখে মুখে ঘুরে বেড়াবে।। অনেকেরই হয়তো পরিষ্কার ধারণা নেই ঘটনার পুননির্মাণ পুলিশ কিভাবে করে? আর কেনই বা করা হয়? আসলে অপরাধী কে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধী কি কি পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটিত করেছিল এবং পুলিশি জেরায় অপরাধী স্বীকারোক্তিকে ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এর কারণ শুধুমাত্র অপরাধীর বয়ানের সত্যতা যাচাই করাই নয়। অপরাধীর মানসিকতাও যাচাই করা হয় এই পুননির্মাণের মাধ্যমে। এক্ষেত্রেও অপরাধী বিশ্বজিৎ কর্মকার ওরফে বিশু কে নিয়ে শনিবার বারসাত পুলিশের আধিকারিকেরা ঘটনা পুননির্মাণ করান। প্রথমে বিশুকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসাত ব্যারাকপুর রোডে অবস্থিত লোকনাথ মন্দিরের সামনে। সেখানে দাঁড়িয়ে কার্যত বিশু স্বীকার করে নেয় প্রথমে এখানেই দাঁড়িয়ে ধূমপান করত , তারপর কোন একাকী মহিলাকে দেখলে বাইকে করে তার পিছু নিত। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই বারাসাত টালি খোলার রাস্তা ধরে মহিলাদের পিছু নিয়ে বিশু পৌঁছে গিয়েছিল প্রথম দিন নবীন সেন পল্লীতে। দ্বিতীয় দিন এই একই রাস্তা ধরে বিশু মহিলার পিছু নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল হৃদয়পুর ১১ নম্বর রেলগেটের পাশে ইউনাইটেড ক্লাবের সামনে। পুলিশ বিশুকে নিয়ে সেই দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিশু কীভাবে আক্রমণ করেছিল তারও পুনর্নির্মাণ করায়। এদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই পুলিশের প্রশ্নের মুখে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেও, আক্রমণের জন্য কেন সে মহিলাদের সংবেদনশীল জায়গাকে বেছে নিত তার উত্তর দেয়নি বিশু।
আরও পড়ুন: টার্গেট মহিলা : বারাসাতে সিরিয়াল কিলারের কায়দায় একের পর এক মহিলার বক্ষে ছুরিকাঘাত
এই আক্রমণের ঘটনার মোডাস অপারেন্ডি এখনও পুলিশ ও জনসাধারণের কাছে পরিষ্কার নয়। আজ থেকে বহু বছর আগে বিশুর নিজের মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা বাইকে করে ছিনতাই করে নিয়েছিল একদল ছিনতাইকারী। সেই ক্ষোভ আজও কি বিশুকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে? নাকি মানসিক বিকৃতি দেখা দিয়েছিল বিশুর। অথবা পারিবারিক কোনও অশান্তি যার জেরে মহিলাদের উপর তীব্র অসন্তোষ জন্মেছিল তার? এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনওদিন মিলতে পারে, আবার নাও মিলতে পারে। তবে সে যে জঘন্য এবং নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তার পরিণতিতে কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে। বিশু আপাতত শ্রীঘরে। বারাসাতে কেটেছে আতঙ্কের পরিবেশ। পুলিশের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই ধরিয়ে দিয়েছে বিশুকে। প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে যাতে এমন বিশুরা কখনো সুযোগ না পায় আক্রমণের।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি