সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জুন: রাত পোহালেই চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ। ইতিমধ্যে সেখানে শেষ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের কাজ। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে বিরাম নেই। রবিবার ভোটপ্রচারে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর। আগামী ২০ মে যেই কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। একদিকে এ দিন সকালে ভাটপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সমর্থনে জনসভা করেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন তিনি। বেলার দিকে এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আমডাঙায় তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিকের সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। দেশের দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের বক্তব্যের একটা বড় অংশ জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে সন্দেশখালি ।

তৃতীয় দফায় ভোটগ্রহণের আগে রাজ্যে জনসভা করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাতে তিনি কলকাতায় পা দেন। তার আগেই সন্দেশখালি স্টিং অপরেশনের দ্বিতীয় পর্ব সামনে আসে। যা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে সরব হলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “তৃণমূল সন্দেশখালি নিয়ে নতুন খেলা শুরু করেছে। শেখ শাহজাহানের বাড়ি থেকে বোমা-বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ভোট ব্যাঙ্কের জন্য তাকে বাঁচাতে চাইছে তৃণমূল। সন্দেশখালির ঘটনার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। সন্দেশখালির মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল।” এরপর তিনি যোগ করেন, “সন্দেশখালিকাণ্ডের দোষীদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তৃণমূলের পুলিশ। কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আবার নতুন খেলা শুরু করেছে তৃণমূল। অত্যাচারীর নাম শেখ শাহজাহান বলেই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা। তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: Optical Illusion: পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বার করুন
প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমডাঙার জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন সন্দেশখালি নিয়ে এখনও মিথ্যাচার করছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “সন্দেশখালি নিয়ে চক্রান্ত করা হল। মা-বোনেরা জানেনও না তাঁদের হাত দিয়ে কী লিখিয়েছে। তাঁদের দিয়ে লিখিয়ে চক্রান্ত করা হয়েছে।”এরপরই অনেকটা মমতাসুলভ ভঙ্গীতেই তিনি বলেন, “আপনার জন্য সন্দেশ অপেক্ষা করছে। সন্দেশ হচ্ছে, দেশের খবর কী? দেশের খবর হল – মোদী হারছেন, মোদী বিদায় নিচ্ছেন।” পাশাপাশি রাজ্যপাল নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা। রাজ্যপালকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি বলেন তিনি। “আপনার উচিৎ ছিল না রাজ্যপালকে সরিয়ে নেওয়ার?” বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন মমতার।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের