সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২জুলাই : ময়দানে আবার যেন পুরোনো দিন ফিরে এল। আনোয়ার আলিকে নিয়ে দুই প্রধানের যুদ্ধে উত্তাপ ছড়াল দলবদল ঘিরে। কে পাবে আনোয়ারকে?
বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ট্রান্সফার লোনের আইনি ফাঁকফোকরের সুবিধা নিয়ে ইতিমধ্যেই মোহনবাগানের ডিফেন্ডার আনোয়ারকে সই করিয়ে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল।কিন্তু মোহনবাগানও শেষ দেখতে চায়। প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটিতেও আনোয়ারকে ধরে রাখতে না পারলে আইনি পথে হাঁটবে তারা।মোহনবাগান নিশ্চিত আনোয়ারকে তারাই ধরে রাখতে পারবে। তাঁদের যুক্তি ফিফার লোন ট্রান্সফার সংক্রান্ত আইন এখনো ভারতীয় ফুটবলের প্রযোজ্য হয়নি। প্রসঙ্গত দিল্লি এফসি থেকে লোন ট্রান্সফার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে মোহনবাগানে এসেছিলেন আনোয়ার । আর মোহনবাগান কর্তারা ইতিমধ্যেই চুক্তির কাগজপত্র ফেডারেশনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মোহনবাগানের দাবি, দিল্লি এফসি থেকে মোহনবাগানে আনোয়ারের দীর্ঘমেয়াদী লোন ট্রান্সফার এখনও বৈধ।

একথাও বলা দরকার, বারবার প্লেয়ার রিক্রুট করার ক্ষেত্রে মাঠের বাইরে মোহনবাগানের কাছে হারতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। ভারতের অন্যতম মিডফিল্ডার আপুইয়াকে তুলে নিয়েছে মোহনবাগান যাকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছিল। বারবার মাঠের বাইরে হারতে হলেও এবারে কোমর বেঁধে নামে ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ারের ক্ষেত্রে ময়দানে নেমেছেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রধান কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নিতু সরকার। কৃশানু বিকাশকে ৮০ র দশকে মোহনবাগান থেকে ইস্টবেঙ্গলে আনতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাঁর সক্রিয় হওয়ার আগে আনোয়ারকে নিয়ে প্রথম সক্রিয়তা দেখান একদা মিনারভা এফসির কর্মকর্তা থাকা রঞ্জিত বাজাজ। তিনি যুক্তি তুলে ধরেন, লোন ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এক বছরের পরে চুক্তি ভ্যালিড থাকে না। সেক্ষেত্রে, তাঁর এবং আনোয়ারের সবুজ সংকেত পেয়ে চন্ডিগড় উড়ে যান দেবব্রত সরকার। সেখানেই সব কাগজপত্র দেখে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইস্টবেঙ্গলের সই করানো হয় আনোয়ারকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সবুজ মেরুন জার্সি ছেড়ে আদৌ লাল হলুদ জার্সিতে দেখা কি যাবে আনোয়ারকে? এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে ভালো যিনি বলতে পারতেন, সেই রঞ্জিত বাজাজ এখন স্পিকটি নট। তিনি বলছেন, যা বলার সবই বলবেন ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা। ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁকেছেন। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবসূত্রে যা জানা যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলও আনোয়ারকে নিজেদের ডেরায় তুলতে বদ্ধপরিকর। লোনের চুক্তির বৈধতা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরতে তাদের যুক্তি গোয়া এফসির সঙ্গে এর আনোয়ারের আগের লোন সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরতে পারে ।সব মিলিয়ে আনোয়ারকে নিয়ে সরগরম ময়দান। নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের স্বার্থে তিনি কি প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির সামনে মোহনবাগানে খেলতেই আগ্রহী হবেন নাকি রঞ্জিত বাজাজের দাবি মত ইস্টবেঙ্গলে খেলবেন আনোয়ার । মোহনবাগানের একাংশের রঞ্জিত বাজাজ নিয়ে অভিযোগ,রঞ্জিত বাজাজ আনোয়ারের টাকা বাড়াতে চাল চেলেছেন যা নাকি কার্যকর হবে না। সূত্রের খবর, মোটা অঙ্কেই ইস্টবেঙ্গলের চুক্তিপত্র সই করেছেন আনোয়ার । তবে এখন দেখার ইস্টবেঙ্গল নাকি মোহনবাগান? আনোয়ারকে নিয়ে দড়ি টানাটানিতে জেতে কে?


More Stories
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কুপার কনোলি জেতালেন পাঞ্জাবকে