Home » বারাসাতে মেট্রো রেল নিয়ে সংসদে মুখর কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঠিক কী বললেন?

বারাসাতে মেট্রো রেল নিয়ে সংসদে মুখর কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঠিক কী বললেন?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২ আগস্ট : বারাসাতের সাংসদ ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদার বরাবরই ব্যতিক্রমী।  লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে চতুর্থবারের জন্য জয়ী হয়ে সংসদে পাড়ি দিলেও তাঁর অভিমান ছিল বারাসাত শহর নিয়ে। বারাসাতের উন্নয়নে সাংসদ তহবিলের টাকা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি একশো শতাংশ সফল। তিনি বারাসাতের উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিয়েও তিনি হয়তো ছিলেন অভিমানী। তাঁর প্রচেষ্টাকে তাঁর সংসদীয় ক্ষেত্রের প্রধান শহরের মানুষ তাঁকে উজাড় হস্তে  ভোটবাক্সে ভালোবাসা দেয় নি। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল কে তিনি যেভাবে মূল্যায়ন করেছেন তা বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরমহলে ভাষা পেয়েছে। পুর- অঞ্চলে ভোটে দলের পশ্চাৎমুখিতার কারণ তুলে ধরেছিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, এবার বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব পেয়েছেন ববি হাকিম। কিন্তু তাতে কি?  কাকলি ঘোষ দস্তিদার চুপ করে বসে নেই। তিনি  প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষের কথাই বলবেন। তার আরও একবার  প্রকাশ ঘটল সংসদ কক্ষে। কেন্দ্রীয় বাজেটে রেলের আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে তিনি দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন, যেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকট হয়েছে। সংসদে রেল বরাদ্দ নিয়ে বক্তব্য রাখতে উঠে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।  তাঁর সংসদীয় ক্ষেত্রে মেট্রো রেলের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুচারু করে তুলতে তিনি দাবিকে অকাট্য  যুক্তিজালে সাজিয়ে তুলে ধরেছেন। বারাসাত তার এলাকার রেল পরিষেবাকে উপযোগী করে তোলার তীব্র দাবির মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছি যাত্রী সুরক্ষার কথা। বারাসাতের সাংসদ বারবার তাঁর এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ফুটিয়ে তুলেছেন সংসদে রেল বাজেটে রাজ্য ও তাঁর এলাকার ন্যায্য প্রাপ্তির দাবি তুলে। তাঁর এলাকার মানুষের নাগরিক সুবিধা ও যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্য আনার  প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।  সংসদে তাঁর ভাষণে রেলের একাধিক প্রকল্প থমকে থাকা বা সুনির্দিষ্ট ভাবে  মেট্রো রেল নিয়ে তিনি কেন্দ্রের ঢিমেতেতালা কাজের সমালোচনায় মুখর হয়ে দ্রুত মেট্রো লাইনের কাজকে সম্পন্ন করার দাবি তীব্রতর করেছেন। বারাসাত পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রককে ধারালো আক্রমণ শানালেন বারাসাতের সাংসদ।

বারাসাতের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেট্রোরেল। কাজ বহুদিন আগেই শুরু হয়েছিল কিন্তু থেমে আছে কাজ। কাজে গতি আনার বিষয়ে বারাসাত পর্যন্ত বা বারাসাত থেকে মেট্রোরেলের কাজ নিয়ে সংসদে এবার একাধিক দাবি তুললেন ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ঠিক কি বলেছেন তিনি?

বর্তমান অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে রেলে বরাদ্দ নিয়ে সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রথমেই রেল পরিষেবা ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা তুলে যাত্রী সুরক্ষায় জোর দেওয়ায় গুরুত্ব আরোপ করেন। রেল দুর্ঘটনার বিষয় তুলে ধরে রেল যাত্রীদের প্রাণহনির বিষয়ে রেল মন্ত্রকের গাফিলতির ও নজরদারির অভাবকে  দায়ী করেন।যাত্রী সুরক্ষার জন্য একাধিক দাওয়াই ছিল তাঁর বক্তব্যে। অতঃপর তিনি বাজেটে রেলের বরাদ্দর খতিয়ান তুলে বঙ্গ বঞ্চনার প্রসঙ্গে সরব হন। পাশাপাশি ট্রেন ও মেট্রো রেল নিয়ে একাধিক দাবি তোলেন।

বারাসাতের সাংসদের বক্তব্য, “আমরা শহরতলীর আরও ট্রেন চাই। যে চাকুরীজীবী এবং কর্মপ্রার্থীরা তারা বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে থাকেন তাদের সুবিধার্থে আরও ট্রেন চাই । ” কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “আমরা যেমন শহরতলীর ট্রেন চাই তেমন আরও মেট্রো স্টেশন চাই। ” মেট্রো লাইনের দ্রুত কর্ম সম্পাদনের  দাবি তোলেন তিনি । কাকলি ঘোষ দস্তিদার তার ভাষণে বলেন, “আমার সংসদীয় ক্ষেত্রে বারাসাত বিমানবন্দর লাইনে আমি বারাসাত লাইনের জন্য টাকা বরাদ্দ হতে দেখিনি। বরাদ্দ টাকা বারাসাত লাইনের কথা ভেবে বাড়ানো হোক। বারাসাত থেকে বিমানবন্দর লাইনের জন্য টাকা প্রয়োজন। নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দরের কাজ এগিয়ে চলেছে, বিমানবন্দর থেকে বারাসাত মেট্রো রেলের কাজের জন্য বারাসাত হয়ে মাইকেল নগরগামী লাইনের কাজ চলছে। অথচ মাইকেল নগর থেকে বারাসাতের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। কেন এই কাজ হচ্ছে না? এর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। ”  মেট্রো রেলের কাজে গতি আনতে ভরা সংসদে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন দ্রুত গতি আনা হোক মেট্রো রেলের কাজে। তাঁর অভিযোগ, থমকে আছে একদিকের কাজ। মেট্রো রেলের কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার দাবি সম্বলিত তাঁর বক্তব্যে ছিল প্রাসঙ্গিকতা, ছিল কৌশল।

প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারাসাত সংসদীয় ক্ষেত্রের একাধিক প্রকল্প ও রেল উন্নয়নের ক্ষেত্রে খামতির কথা বলেছেন। বলেছেন বন্দে ভারতের কথা, একই সঙ্গে বলেছেন যাত্রী সুরক্ষার কথা। “বলা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০  কিলোমিটার গতি সম্পন্ন বন্দে ভারত মেট্রো চালু করা হবে। আমার সংসদীয় ক্ষেত্রে এর কোন কাজ হচ্ছে না। ৭০০ কিলোমিটার গতি সম্পন্ন রেলের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার, বলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

আরও পড়ুন হেনরি কিসিঞ্জার : ইন্দিরার ভারতের শত্রু, মোদীর প্ৰিয় ব্যক্তিত্ব!

রেল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে সরব কাকলি ঘোষ দস্তিদার আরও বলেন,রেলরোড গেটে লোকই থাকেনা। প্রহরী থাকলেও ঠিকঠাক কাজ করে না গেট। রেলরোড বা রাস্তা পি ডব্লিউ ডি’র অধীনে পড়ে না। রেলের এলাকার মধ্যে পড়ে। আরও একবার বারাসাত সংসদীয় ক্ষেত্রের কথা টেনে আনেন তিনি। তিনি বলেন, তাঁর সংসদীয় ক্ষেত্রে ভয়ংকর খারাপ অবস্থা রেল রোডের যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটায়। ” আমার সংসদীয় ক্ষেত্রে প্রানহানির ঘটনা আকছার ঘটছে, ”  রেলরোডের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ঝরে পড়ে তাঁর ভাষণে। রেল রোডের পাশে সোলার প্যানেল দেওয়ার  গৃহীত প্রস্তাবের  প্রসঙ্গ তিনি উত্থাপন করেন ।  সুরক্ষার প্রশ্ন ঘুরে ফিরে এসেছে রেল রোড প্রসঙ্গে।

এখানেই থেমে থাকেন নি বারাসাতের সাংসদ। স্টেশন গুলির উন্নয়নের দাবি তুলে মহিলা যাত্রী-আলয় ও মহিলা শৌচাগারের উন্নয়নের দাবি তোলেন তিনি ।তিনি বলেন, “আমার সংসদীয় ক্ষেত্রে  স্টেশনগুলিতে মহিলাদের অসুবিধার অন্ত নেই। ” বাজেট বাড়ালেই হবে না, যাত্রী পরিষেবা ও যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে- কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সংসদীয় ভাষণে ছত্রে ছত্রে  তারই ছিল উল্লেখ।

ব্যতিক্রমী, বড্ড ব্যতিক্রমী বারাসাতের সাংসদ ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদার তা তাঁর বাজেটে রেল বরাদ্দ নিয়ে দু দিন আগের ভাষণে তিনি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি নিজের দল বা বিশেষ এলাকার কথা না বলে দেশের যাত্রী সুরক্ষার পাশাপাশি, নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রে সার্বিক বিকাশে কতটা আগ্রহী তার প্রমাণ আরেকবার  রাখলেন তিনি । গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে একজন সাংসদের ভূমিকা কি হতে পারে তার সাক্ষী হয়ে থাকল বারাসাতের সাংসদের ভাষণ সমৃদ্ধ সংসদ কক্ষ। যাত্রী সুরক্ষা এবং মেট্রোরেল প্রসঙ্গে নজির হয়ে থাকল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সংসদে সুচিন্তিত মতামতভিত্তিক বক্তব্য ও দাবিদাওয়া ভিত্তিক উপস্থাপনা। এখন সময় বলবে, কেন্দ্রীয় সরকারও রেল মন্ত্রকের কতটা টনক নড়াতে পেরেছেন তিনি!

আরও পড়ুন একের পর এক রেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি : কাকলি ঘোষ দস্তিদার রেলমন্ত্রককে বিঁধে যাত্রী সুরক্ষায় বাতলালেন নিদান

About Post Author