Home » RGKAR Hospital Horror Update :সন্দীপ -সঞ্জয় সহ কোন সাতজনের কেন পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি? ধোঁয়াশা কি কাটবে?

RGKAR Hospital Horror Update :সন্দীপ -সঞ্জয় সহ কোন সাতজনের কেন পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি? ধোঁয়াশা কি কাটবে?

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ আগস্ট : আরজি কর কাণ্ডে কি নয়া মোড় আসায় ধোঁয়াশা কি কাটতে চলেছে? উল্লেখযোগ্যভাবে, একদিকে যেমন আরজিকর হাসপাতাল কাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, অন্যদিকে শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) আদালত  প্রধান অভিযুক্ত  সঞ্জয় রায় ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও আরও ৫ জনের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি দিয়েছে সিবিআইকে । যাদেরকে  আদালত টেস্টের অনুমতি দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তর বন্ধু ও চার শিক্ষানবিশ বা পড়ুয়া চিকিৎসক (ট্রেনি ডাক্তার )। কি কারণে এদের  পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি  দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনা সঙ্গে তাদের যোগসূত্র কোথায় -সে সম্পর্কে নতুন তথ্য মিলেছে। নতুন তথ্য কী কী এবং ধোঁয়াশা কাটার ইঙ্গিত কতটা রয়েছে?

কেন ৭ জনকে পলিগ্রাফ টেস্টের  অনুমতি দিয়েছে আদালত? উল্লেখ্য,সিভিক ভলেন্টিয়ার বা নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক  সঞ্জয় রায়কে ঘটনার দিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ  বা সিবিআই ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তের পরে যথাক্রমে জানিয়েছিল এবং জানিয়েছে যে, সঞ্জয় রায় অনুশোচনাহীন বিকৃতমনস্ক এক অপরাধী। সে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছে এমনটাই সূত্রের খবর। আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দফায় দফায় জেরা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে। আট দিন ধরে জেরার অর্থ তাঁকে জেরা করে সিবিআই এখনও সন্তুষ্ট নয় এবং খুন বা ধর্ষণের সঙ্গে তিনি কতটা জড়িত তা এখনও প্রমাণ সাপেক্ষ।  বাকি যে পাঁচ জনকে পলিগ্রাফ টেস্টের সামনে পড়তে হতে চলেছে তাঁদের সম্পর্কে এবং তাঁদের ঘটনার দিন গতিবিধির কারণ জানতে চাইছে তদন্তকারী দল কারণ কয়েকটি  বিষয় সামনে এসেছে যা তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়গুলি কী?

আতস কাঁচের তলায় থাকা সঞ্জয় ও ট্রেনি ডাক্তারদের চিকিৎসক খুনের ঘটনার সময় অর্থাৎ ৯ জুন  ভোরে গতিবিধি কী জানা গিয়েছে?

সূত্রের খবর, মহিলা চিকিৎসক প্রায় ৩৬ ঘন্টা ডিউটির পরে ৯ আগস্ট শেষ রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।  ঘুমন্ত অবস্থায় ভোর ৪টা ৩ মিনিট নাগাদ সেমিনার হলে প্রবেশ করে সঞ্জয় রায়। এবং পরবর্তী ৩৭ মিনিটে ধর্ষণ -হত্যা সংঘটিত হয়।

ভোর ৪:৩২ সেমিনার হল থেকে বেরিয়ে যায় সঞ্জয়।

ভোর ৪:৩৭  বাইকে করে হাসপাতাল থেকে বের হয় সে।

তার আগে সে মহিলা চিকিৎসককে  ধর্ষণ করে এবং হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে তদন্তকারী দল। ভোর ৪:১৫ থেকে ৪:৪০ এর মধ্যে মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যু হয়।

অর্থাৎ সঞ্জয় ওতপ্রোতভাবে  খুন ও ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। পলিগ্রাফ টেস্ট যার ওপরে করা হয় তারও সম্মতির প্রয়োজন। জানা গিয়েছে সঞ্জয় ইতিমধ্যেই,পলিগ্রাফ টেস্টে তার সম্মতি দিয়েছে। অর্থাৎ শুক্রবার ১৪  দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকাকালীন  তার পলিগ্রাফ টেস্ট হবে।তার এক “বন্ধু” -কেও পলিগ্রাফ টেস্টে বসিয়ে সবিস্তারে এই বিষয়ে জানতে চায় সিবিআই।

বাকিদের পলিগ্রাফ টেস্টে ডাকার কারণ : সিবিআই দুজন প্রথম বর্ষের পিজিটি ডাক্তারের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করতে চলেছে যাদের আঙুলের ছাপ সেমিনার রুমে পাওয়া গিয়েছে । ঘটনার রাতে তাঁরা নিহত চিকিৎসকের সঙ্গে ডিউটিতে ছিলেন এবং সেমিনার রুমে বিশ্রামের আগে একসঙ্গে ডিনার করেছিলেন।

এছাড়াও পলিগ্রাফ টেস্ট করা হতে চলেছে একজন হাউসস্টাফকে যাকে সিসিটিভি ফুটেজে প্রথম তলা থেকে তৃতীয় তলায় যেতে দেখা গিয়েছে , এবং একজন ইন্টার্ন যিনি অকুস্থলের একই তলায় ছিলেন এবং বিশ্রামে নেওয়ার আগে মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে  যোগাযোগ করেছিলেন।

এবার প্রশ্ন হ’ল পলিগ্রাফ টেস্টে সব ধোঁয়াশা কাটবে কিনা! তদন্তে বেশ কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে ঠিকই কিন্তু উল্লেখ্য, পলিগ্রাফ টেস্টকে চূড়ান্ত ও নির্ভুল হিসেবে ধরা হয় না । পলিগ্রাফ টেস্ট সন্দেহভাজনের সত্যি বা মিথ্যে কথা ধরার একটি পরীক্ষামাত্র যেখানে বেশ কয়েকটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে সত্যি জানা গেলেও ভুল ত্রুটির সম্ভাবনা থেকে যায়। তথাপি পলিগ্রাফ টেস্ট তদন্তে সুবিধা করে দেয়।আর সেজন্যই সিবিআই  বৃহস্পতিবার পলিগ্রাফ টেস্টের আবেদন আদালতে করেছিল। শুক্রবার সেই আবেদনে আদালত সাড়া দেওয়ায় পলিগ্রাফ টেস্টের ছাড়পত্র মিলেছে।।

About Post Author