Home » বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা! নবান্নের আপত্তি উড়িয়ে বৃহস্পতিবার ফের ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা! নবান্নের আপত্তি উড়িয়ে বৃহস্পতিবার ফের ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর: একটানা কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজ্যের একাধিক অঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও নতুন করে জলমগ্ন হওয়ার প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঝাড়খন্ড সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম , পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে ঝাড়খন্ডেও। ফলে ডিভিসির মূল দুটি জলাধার মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধের উপর জলের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। জলের চাপ বাড়ার কারণে নবান্নের আপত্তি উড়িয়ে বৃহস্পতিবারও দামোদর উপত্যকার বিভিন্ন বাঁধ ও জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন    আরজিকর কাণ্ডের তদন্তে সল্টলেকের এক হোটেল কর্মীকে তলব করল CBI

ডিভিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে মোট ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। যার কারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বাড়ছে প্লাবনের আশঙ্কা। বুধবারও মাইথন ও পাঞ্চেত— দুই জলাধার থেকেই জল ছাড়া হয়েছে। এদিন সকালে মাইথন থেকে ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন ছিল রাজ্যকে না জানিয়ে নতুন করে জল যেন না ছাড়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী আপত্তি উড়িয়ে ফের মাইথন এবং পাঞ্চেত— এই দুই জলাধার থেকে জল ছাড়া হচ্ছে।


ডিভিসি জল ছাড়ায় ইতিমধ্যেই প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঝাড়খন্ড সংলগ্ন আসানসোল, দুর্গাপুর , বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশে। কারণ দুই ব্যারেজ থেকেই জল দামোদর নদ হয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দামোদর ব্যারেজে পৌঁছাচ্ছে। ফলে দামোদর ব্যারেজের জলের চাপ ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়া সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয় তাহলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ এবং বর্ধমানের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হতে পারে। ইতিমধ্যে আসানসোল, দুর্গাপুর এবং রানীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত ভেঙে পড়েছে বহু মাটির বাড়ি। এদিকে, ঝাড়খন্ড সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। সেক্ষেত্রে জল ছাড়া হতে পারে ডিভিসির দুটি ব্যারেজ মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে। জল ছাড়া হতে পারে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও। ফলে নতুন করে আবার প্লাবনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে প্লাবিত অঞ্চল নিয়েও আতঙ্কিত রাজ্য সরকার। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।

#DVCReleasesWater #MaithonandPanchetDam  # Latestbengalinews  #DVC

About Post Author