সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ তিনদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত গোটা নেপাল। গত কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বন্যায় ভেসে গিয়েছে নেপাল। রাজধানী কাঠমান্ডুর সমস্ত নদীই বিপদসীমার উপরে বইছে। বন্যার মধ্যেই একাধিক এলাকায় ধস নেমেছে বলে খবর। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু-সহ একাধিক এলাকা। লাফিয়ে বাড়ল মৃতের সংখ্যা। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ইতিমধ্যেই নেপালে ১১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত আরও ৪২ জন। জলের তোড়ে ভেসে নিখোঁজ আরও ৪৮ জন। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত তিন হাজার বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে নেপালের বন্যাতেই বড় বিপদের মুখে বাংলাও। বিহারে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে বন্যা সতর্কতা। প্রশাসনের তরফে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কথা বলা হলেও, ঠিক মতো রাস্তা মেরামতি না হওয়ার ফল ভুগতে হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তি পত্রিকায় পুজোর বিজ্ঞাপন, কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ
গত বৃহস্পতিবার থেকে নেপালে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে দেশের একাধিক শহর চলে গিয়েছে জলের তলায়। তার মধ্যেই শনিবার হড়পা বানের সতর্কতা জারি করে নেপালের আবহাওয়া দফতরের। বহু রাস্তা ধসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে পৌঁছতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। তার মধ্যে সমস্যা বাড়াচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। শুক্রবার থেকে নেপালে বহু বিমান বাতিল করা হয়েছে। কাঠমান্ডু বিমাবন্দরে সমস্ত ঘরোয়া উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৫০টি বিমান বাতিল হয়েছে। ধসের কারণে ২৮টি জায়গায় জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ। কাঠমান্ডু থেকে একাধিক এলাকায় পৌঁছনোর রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, নেপালের জলে ভাসছে বিহারও। সে রাজ্যের উত্তরপ্রান্তে গণ্ডক, কোশী, মহানন্দার মতো নদীগুলোতে জলস্তর বাড়তে পারে নেপালের বন্যার জেরে। ফলে ভাসতে পারে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোও। সেই জন্য আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বিহার সরকার।

এদিকে, লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে। গত কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে একের পর এক নদী ফুঁসছে। ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার জল। পাহাড়ের একাধিক এলাকায় ধস নেমেছে বলে খবর। ধস নেমেছে দার্জিলিঙের সিংমারি-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায়। ভারী বর্ষনের জেরে বন্ধ ১০ নং জাতীয় সড়ক। সতর্কতা জারি করা হয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক-সহ পাহাড়ি রাস্তাগুলিতে।একইসঙ্গে তিস্তা থেকে দার্জিলিং যাওায়ার প্রধান রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিস্তাবাজার, সেবক, বাসুসুবা, গজলডোবা-সহ একাধিক জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এছাড়াও যান চলাচল নিষিদ্ধ কালিম্পং ও পাবনা সড়কেও। গোরুবাথান থেকে মংপং সড়কের পরিস্থিতিও যথেষ্ট খারাপ। যে কোনও সময় রাস্তাটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা। জোড়বাংলো-তিস্তা রোডে ৩ মাইল থেকে ৬ মাইলের মধ্যেও ভূমিধসের খবর পাওয়া গিয়েছে।
#LandslideinNepal #Latestbengalinews #Nepalfloods


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ : মার্কিন -ইজরায়েল হানায় খামেনির আহত স্ত্রীর মৃত্যু
আয়াতুল্লাহ খামেনি কি নিহত?