সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ সেপ্তেম্বরঃ আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। চলছে রিপাবলিক বনাম ডেমোক্র্যাটদের সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। মঙ্গলবার গভীর রাতে পেনসিলভেনিয়ায় এবিসি নিউজ একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করে। যেখানে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান-প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখোমুখি হলেন ডেমোক্র্যাট-প্রার্থী তথা আমেরিকার বিদায়ী উপরাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিসের। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিষয় নিয়ে দুই প্রার্থী জড়ালেন বাগবিতণ্ডায়। গর্ভপাত থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনীতি থেকে আবাসন সংকট— বাদ পড়েনি কিছুই।

বিতর্ক সভার শুরুতেই ট্রাম্প আক্রমণ করছেন আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনকে। জবাবে ভারতীয় বংশোদ্ভুত কমলা হ্যারিস মনে করিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনে এবার বাইডেন নয়, তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের আমলে দেশের অর্থনীতির যে বেহাল অবস্থা হয়েছিল তাতে সমতা আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বাইডেনের সরকারকে। পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ট্রাম্পও। কমলাকে লক্ষ্য করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘উনি হলেন মার্ক্সবাদী। ওঁর বাবাও মার্ক্সবাদী ছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।’’ মঙ্গলবার কমলা দেশের জনতার উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, উনি নিজে এক মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান। তাই তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সবার আগে ভাববেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা। তাদের পাশে দাঁড়াবেন। আর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে শুধু দেশের পুঁজিপতিরা কর ছাড় পাবেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পাল্টা প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। এবিষয়ে ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “আপনি এখন আর প্রেসিডেন্ট নেই বলেই অনেকে কৃতজ্ঞ। না হলে পুতিন যে ধরনের স্বৈরশাসক, তিনি সহজেই আপনাকে গিলে খেয়ে ফেলবেন।” কোভিডের সময় আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অচলায়তনকেও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি কমলা। সেই সময় আমেরিকার ক্ষমতায় ছিল ট্রাম্পের সরকার।
আরও পড়ুনঃ পাঁচ দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবনে ‘সাফাই অভিযান’ জুনিয়র ডাক্তারদের
গত জুন মাসে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে একটি বিতর্ক সভায় মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিতর্ক সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করে ছাড়েন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা আসন্ন নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী। তারপরেই জানা যায় প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসাবে পরবর্তী নির্বাচনে লড়বেন না বাইডেন । কার্যত ডেমোক্র্যাট জাতীয় সম্মেলনে বাইডেনের স্থানে প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করা হয় কমলা হ্যারিসকে। বাইডেন সঙ্গে বিতর্ক সভায় সেবার হাত মেলাননি ট্রাম্প। তবে অন্য ছবি দেখা গেল মঙ্গলবার। হাত মিলিয়ে সভা শুরু করেছিলেন দুই ভিন্ন দলনেতা। তবে একে অপরের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিতে ভোলেননি দুই যুযুধান দলের প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে আর বাকি মাত্র আট সপ্তাহ। ফের মার্কিন মুলুকের মসনদে বসবেন ট্রাম্প, নাকি প্রথম বারের জন্য কোনও অশ্বেতাঙ্গ মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান পেতে চলেছে আমেরিকা। উত্তর পেতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে কিছুদিন।


More Stories
স্পেনের সীমান্তে মরোক্কোর অনুপ্রবেশকারী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুমিছিল অব্যাহত
বিশ্বকাপে ইতালির ট্র্যাজিক নায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত
ভোট চলছে, প্রথমবার প্রার্থী হওয়া প্রশান্ত কিশোরের দিকে চোখ দেশের