সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ ডিসেম্বর: যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেলে বন্দি বাবা। আর তার পর থেকেই পাড়ার লোক থেকে শুরু করে সহপাঠীদের হাঁসির পাত্রী হয়ে উঠেছিল তরুণী। বাবা পকসো মামলায় জেল হেফাজতে। তবে বাইরে থেকেও বাবার চেয়েও অধিক যন্ত্রণা সহ্য করছিলেন নির্যাতিতা। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি প্রতিবেশীরাও। অবশেষে আশেপাশের মানুষদের দ্বারা মানসিক নিগ্রহের চাপেই আত্মঘাতী নবম শ্রেণীর ছাত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হল তার ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তরুণী।

আরও পড়ুন: শীতকালে ঠোঁট ফাটা নিয়ে চিন্তা? মেনে চলুন এই চার টিপস, লাগবে না কোনও পেট্রোলিয়াম জেলি
ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর কমিশনারেটের লেক টাউন থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ছাত্রীর দেহ ময়না তদন্তে পাঠায়েছে পুলিশ। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, মৃতার বাবাকে কালীপুজোর দিন পকসো মামলায় গ্রেফতার করে লেক টাউন থানা। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিল প্রতিবেশী এক নাবালিকা। তার পর থেকেই ওই ব্যক্তি জেলে বন্দি। পুলিশ জানায়, মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পকসো মামলার অভিযোগকারিণীর পরিবার ও প্রতিবেশীদের কয়েক জন ওই ঘটনার পর থেকেই মেয়েটিকে কটাক্ষ করত। এমনকি, বাবার প্রসঙ্গ টেনে এনে সহপাঠীদের কেউ কেউ তাকে টিটকিরি দিত। তারই জেরে ওই ছাত্রী অবসাদে ভুগছিল কিছু দিন ধরে।
মেয়ের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছেন মায়ের কথায়, ‘‘আমি তখন রান্নার কাজ করছি এক জায়গায়। মেয়ে স্বাভাবিক গলায় ফোন করে জানিয়েছিল, বাড়ি ফিরে গিয়েছে। খানিক বাদে আমি ওকে ফোন করি। কিন্তু বেশ কয়েক বার মেয়ে ফোন না ধরায় একপ্রতিবেশীকে ঘরে পাঠাই। তিনি ঘরে গিয়ে বার বার দরজায় ধাক্কা দেওয়াতেও মেয়ে সাড়া দেয়নি। খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে যাই। পুলিশে খবর দিই। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে।’’ ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়ে কার্যত গোটা এলাকা। ছাত্রীর দেহ আটকে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের কাছে মৃতার বাবাকে জেল থেকে ছাড়ানোর জন্য দাবি করতে থাকেন। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস