Home » খালেদা জিয়ার বিদেশ সফর, বিদেশ সফর নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

খালেদা জিয়ার বিদেশ সফর, বিদেশ সফর নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

সময় কলকাতা ডেস্ক:- চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। কাতারের আমিরের দেওয়া এয়াল অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর লন্ডন রওনা হওয়ার কথা খালেদার। নেত্রীর বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থায় হওয়ায় তাঁরা খুশি, কিন্তু যে ভাবনাটি তাঁদের ভাবাচ্ছে তা হল এবার খালেদা দেশে ফিরবেন তো ? কেন এই ধারণা ?

শেখ হাসিনার শাসনকালে একাধিক জটিল রোগে অসুস্থ খালেদাকে বিদেশে চিকিৎসা করতে যেতে দিতে অনুমতি দেয়নি। তবে এখন বাংলাদেশের হাওয়া বদলেছে। গতবছর ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পরই খালেদা জিয়াকে বিশেষ ক্ষমতাবলে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। তারপরেই প্রায় ৬ বছরেরও বেশি সময় পর গতবছর নভেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর থেকেই তাঁর বিদেশ যাত্রা নিয়ে নানান আলোচনা চলছিল। হাসিনার সময়কালে নানা রোগে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার দাবিতে রাজপথে টানা আন্দোলন করেছে বিএনপি। তবে মুক্তির পর খালেদার বিদেশ যাত্রায় কীভাবে ৫ মাস লাগল, কীভাবে তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। সে যাই হোক, লন্ডনের পর আমেরিকায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার কথা খালেদার। সেখান থেকে সৌদি আরব যাবেন তীর্থ করতে। ফলে তাঁর দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার আগে রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তাঁর বাসভবনে দেখা করতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বিএনপির বেশকিছু নেতা। নেতারা বিদায় শুভেচ্ছা জানান নেত্রীকে। এদিকে, দু’দিন আগেই বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান দেখা করেন খালেদার সঙ্গে। বাংলাদেশ বদলেছে। ফলে বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে মুক্তির পর খালেদার এই বিদেশযাত্রা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। খালেদার বিদেশ সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দু রকমের ভাবনা রয়েছে। নেত্রীর বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়ায় তাঁরা খুশি, কিন্তু যে ভাবনাটি তাঁদের ভাবাচ্ছে তা হল এবার খালেদা দেশে ফিরবেন তো ? প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও অনেকেই মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনও অজুহাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা আটকে দিতে পারে। বিদেশে যাওয়ার পর দেশে ফেরা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও তার সমর্থক শক্তি কোনও ষড়যন্ত্র করবে না, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএনপি নেতৃত্ব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর নির্বাচন হবে- অন্তর্বর্তী সরকারের এই কথা বারবার পুনরাবৃত্তি আসলে বিএনপির অনেকের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের একটা বড় দাবি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। ২০০৭ সালে এক এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারও রাজনীতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় আলোচিত হয়েছিল মাইনাস টু-এর পাশাপাশি মাইনাল ফোর ফর্মুলা। কি সেই ফর্মুলা ?

মাইনাস টু বলতে প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেত্রীদের বোঝানো হয়। তবে মাইনাস

 

ফোর-এ বাকি দুজন হলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এই আলোচনা সেসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। সেনা নিয়ন্ত্রিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এবং তাঁদের ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিল। হাসিনা ও খালেদাকে গৃহবন্দি রেখে নির্বাচন করিয়ে আমেরিকার পুতুল সরকার গঠনের পরিকল্পনা যদিও বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে তা ভেস্তে গিয়েছিল।

খালেদার ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির কার্যনির্বাহী সভাপতি। দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমান বহু বছর লন্ডনে রয়েছেন। অন্যদিকে, হাসিনার ছেলে জয় আমেরিকার নাগরিক। গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে দেশ ছাড়া আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনার মেয়েও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এখন দিল্লির বাসিন্দা। অর্থাৎ চারজনের মধ্যে তিনজন বর্তমানে দেশের বাইরে। একমাত্র খালেদা জিয়াই বাংলাদেশে। তিনিও এবার দেশের বাইরে গেলে মাইনাস ফোর ফরমুলার ষোলকলা পূর্ণ হতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি নেতারা খালেদার বিদেশ যাত্রা নিয়ে একদিকে যেমন খুশি, একই সঙ্গে উৎকণ্ঠাও গ্রাস করেছে তাঁদের। রবিবার রাতে খালেদা জিয়া দলীয় নেতাদের মাধ্যমে দলকে বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন দেশের জন্য লড়াই করতে। এখনও খালেদার বিদেশ পাড়ির পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হয়, তার দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

About Post Author