Home » সাতখুন মাফ!হেলমেটহীন বাইক ৱ্যালি বিজেপির!

সাতখুন মাফ!হেলমেটহীন বাইক ৱ্যালি বিজেপির!

সানি রায়,সময় কলকাতা : শিব ঠাকুরের আপন দেশে আইন কানুন সর্বনেশে –  হেলমেট ছাড়া বাইকে ঘোরার আদর্শ বিজ্ঞাপন যেখানে থমকে যায় রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে । পুলিশ তখন অন্ধ এবং ঠুঁটো জগন্নাথ। অর্থাৎ প্রচলিত বাগধারা মেনে বলতে হয়,  হয়তো এটাই বাস্তব যে আইন সবার জন্য সমান নয়। ধূপগুড়ির হেলমেটবিহীন বিজেপির বাইক র‍্যালির ছবি ভাইরাল হতেই উদাহরণ যেন চোখের সামনে! শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকলেই কি সাতখুন মাফ? উত্তর নেই প্রশাসনের কাছে বা মৌনতাই উত্তর!

আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ধূপগুড়িতে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য বাইক র‍্যালিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকের হেলমেটবিহীন অবস্থায় বাইকে চলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন পরিচালনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। সেই আবহে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতেও ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ছে। শহরের রাস্তায় বাইক চালানোর সময় শুধু চালকই নয়, পিছনে বসা আরোহীকেও হেলমেট পরতে দেখা যাচ্ছে। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো বা যাত্রা করার ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের তরফে নিয়মিত জরিমানাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরই মধ্যে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ধূপগুড়ি বিজেপির উদ্যোগে ডাকবাংলা ময়দান থেকে একটি বিশাল বাইক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে গয়েরকাটা-নাথুয়া রোড সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকাতেও পৌঁছয়। র‍্যালিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেশাত্মবোধক স্লোগান দিতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের।

তবে র‍্যালির কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, একটি বাইকে চালক ও পিছনের আরোহী দু’জনকেই হেলমেট ছাড়া দেখা গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যেখানে হেলমেট আইন ভাঙলে জরিমানা করা হচ্ছে, সেখানে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে?

স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান হলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইন ভাঙার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ধূপগুড়ি ট্রাফিক পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে হেলমেট ব্যবহারে নিয়মিত সচেতন করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির বাইক র‍্যালিতে হেলমেটবিহীন চলাচলের অভিযোগ সত্য হলে পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর এলাকাবাসীর।

ভাইরাল হওয়া ছবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ধূপগুড়ির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, সরকারপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হচ্ছে? যদিও ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ও দেশাত্মবোধক আবেগের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভাইরাল হওয়া ছবির ভিত্তিতে প্রশাসন কী অবস্থান নেয়, তা নিয়েই এখন ধূপগুড়িতে বাড়ছে জল্পনা। পুলিশ প্রশাসন অবশ্যই মনে করে হেলমেট বাধ্যতামূলক, কবে বিজেপির ক্ষেত্রে নিয়ম লঘু করে দেখার কারণ কী!জানতে চাইলে, সুকৌশলে প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়া ছাড়া কিছুই করেন না পুলিশকর্তারা।।

About Post Author