Home » নবান্নে হাজির নওশাদ সিদ্দিকী !মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হঠাৎ কেন বৈঠকে আইএসএফ বিধায়ক ?

নবান্নে হাজির নওশাদ সিদ্দিকী !মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হঠাৎ কেন বৈঠকে আইএসএফ বিধায়ক ?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- নবান্নে গেলেন নওশাদ সিদ্দিকী। রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা। হঠাৎ কেন এই বৈঠক ? চর্চা তুঙ্গে। রাজনীতিতে স্থির বলে কিছু নেই। অবিরাম তা পরিবর্তনশীল। কখন, কোথায় কী হয়, তার হিসেব বা ভবিষ্যদ্বাণী কেউ করতে সঠিক হননি। রাজনীতি চলে নিজের গতেই। ক্রমাগত বহমান। রাজনীতিতে এমন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যার বাইরের ছবিটা দেখেই মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি হয়। রাজনীতিতে বহু সময়ে সেসব ঘটনাই মাইলফলক হয়ে থেকে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই তেমনই এক ঘটনা ঘটল। সোমবার শুরু হয়েছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দিতীয় পর্ব। বিধানসভায় গিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তবে বিকেল হতেই এক তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর

নবান্ন অর্থ্যাত্ রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। এর আগেও একবার নবান্নে গিয়েছিলেন নওশাদ। তবে সেবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু সোমবার নবান্নের চোদ্দ তলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২২ মিনিট কথা বলেন নওশাদ সিদ্দিকী। বাংলায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে তৃণমূলের প্রভাব রয়েছেই। তবে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আইএসএফের প্রভাবও মন্দ নয়। এ ব্যাপারে নওশাদ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তাঁকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য খোলাখুলি একবার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন শাসক দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তবে তখন নওশাদ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। বরং বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। শেষমেশ অবশ্য সেও টেকেনি। লোকসভা ভোটে একাই লড়েছিল আইএসএফ।

সোমবার নওশাদ নবান্নে যেতেই রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি হয়েছে বটে। নওসাদ অবশ্য দাবি করেন, রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে কোনও কথা হয়নি। এমএলএ ল্যাডের টাকা পঞ্চায়েত সমিতি খরচ করছে না। ফেলে রাখছে। তাতে সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হচ্ছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই অভিযোগ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, ব্যাপারটা তিনি দেখবেন।

তবে কৌতূহলের বিষয় হল

২২ মিনিট ধরে বৈঠকে কি শুধু এই দু লাইন অ্যাজেন্ডাই ছিল। নাকি আরও কিছু আলোচনা হয়েছে? অনেকের মতেই, নওশাদ যে সব বিষয়ের কথা বলছেন, তা নিয়ে ২২ মিনিট ধরে আলোচনার হয়তো প্রয়োজন নেই। তবে এর বাইরে আর কোনও কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা সেটা তিনি বা মুখ্যমন্ত্রী একমাত্র বলতে পারেন। তার বাইরে কিছু আন্দাজ করা যেতে পারে, সেটা তো জল্পনা বা কল্পনা। তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের সম্মুখীন হতেই নওশাদের দিকে প্রশ্ন যায়, তিনি কবে তৃণমূলে যোগদান করছেন ! খানিক থেমে মৃদু হেসে তার উত্তরও দিলেন নওশাদ।

ওই যে কথায় রয়েছে, রাজনীতিতে স্থির বলে কিছু নেই। অবিরাম তা পরিবর্তনশীল। কখন, কোথায় কী হয়, তার হিসেব বা ভবিষ্যদ্বাণী কেউ করতে সঠিক হননি। রাজনীতি চলে নিজের গতেই।

About Post Author