সময় কলকাতা ডেস্ক:- পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময় নানান রকমের অভিযোগ সামনে আসে। কখনও সেই অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে থাকে তো কখনও পাসপোর্ট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে এমন নানা ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এবার ‘ভার্চুয়াল লিঙ্ক’-এর মাধ্যমে আবেদনকারীর সঙ্গে সরাসরি জুড়তে চায় লালবাজার।
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ
কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রতিটি থানা এবং এসসিও–কে সম্প্রতি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। কী ভাবে পাসপোর্ট যাচাই করতে হবে? কী কী নথিপত্র খতিয়ে দেখতে হবে, সে বিষয়ে প্রতিটি ডিভিশনের ডিসি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারদের নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে কী কী নথি জমা করতে হয়, তার নির্দেশিকা রয়েছে। কিন্তু, সেই ব্যক্তি এই দেশেরই নাগরিক কি না, যা যাচাই করতে গিয়ে অতিরিক্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হতে পারে। সেই সব নথিপত্র ওই লিঙ্কের মাধ্যমে আপলোড করা হবে। কোন অফিসার তাঁর ভেরিফিকেশন করছেন, সেই রেকর্ডও থাকবে।’
অনলাইনে তথ্য সংগ্রহের উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে
কলকাতার পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রে দৈনিক বিপুল সংখ্যায় পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে। সূত্রের খবর, কলকাতায় প্রতি দিন গড়ে তিনশো থেকে চারশো পাসপোর্টের আবেদনের ভেরিফিকেশন করতে হয় পুলিশকে। প্রতি মাসে কমবেশি ১২ হাজার। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য দৈনিক গড়ে ৫০ জনের নথিপত্রের সমস্যাও ধরা পড়ে। সেই রিপোর্ট আবার পৌঁছে যায় পাসপোর্ট দপ্তরে। যাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই নানা কারণে ঠিকানা পরিবর্তন করেন। সে ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। ভেরিফিকেশনের সময়ে এমন নানা ধরনের জটিলতা কাটাতেই অনলাইনে তথ্য সংগ্রহের উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ রাজ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় গত কয়েক মাসে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এক অফিসারও। সম্প্রতি বন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্ত লক্ষ্মণ কুমারকে জেরা করে জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র আনিয়ে, সেই নথি জমা দিয়ে এ রাজ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছেন অনেকে। পাসপোর্টের এই জালিয়াতি রুখতে নিয়ম আরও কড়াকড়ি করতে চাইছেন কলকাতা পুলিশের সিকিউরিটি কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশনের (এসসিও) আধিকারিকেরা। তাই, প্রতিটি আবেদন খুটিয়ে দেখতে হচ্ছে তাঁদের।
এখনকার পদ্ধতি অনুযায়ী, যিনি পাসপোর্টের আবেদন করছেন, ভেরিফিকেশনের সময়ে তাঁর মোবাইলে এবার থেকে একটি লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই নির্দিষ্ট সাইট খুলছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে কোন অফিসার ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। এমনকী, আবেদনকারী যে যে নথি জমা দিয়েছেন, সেই তথ্যও থাকছে ওই ওয়েবসাইটে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অথবা পুলিশের তরফে অতিরিক্ত নথি দাবি করা হলে, সেই লিঙ্কের মাধ্যমেই আপডেট কিংবা মন্তব্য করতে পারছেন আবেদনকারী। আপাতত কলকাতা পুলিশের সাউথ সাবার্বান এবং সাউথ ইস্ট, এই দু’টি ডিভিশনে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই পরিষেবা চালু করেছে কলকাতা পুলিশ। তাতে সাফল্যও আসছে। এ বার প্রতিটি ডিভিশনে এই পরিষেবা দ্রুত চালু করতে চাইছে লালবাজার। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভাবে চালু হলে, দুর্নীতি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।


More Stories
পুলিশের জালে তৃণমূল নেত্রী, তোলা হল বারাসাত আদালতে
নিজের স্ত্রীকে আবার বিয়ে করছেন খগেশ্বর রায়
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক