সময় কলকাতা ডেস্ক:- এ যেন কল্পনাকেও হার মানায়। মুম্বাইয়ে রাস্তায় এক সাধারণ ভিক্ষুক আজ ৭.৫ কোটি টাকার মালিক। কি শুনতে অবাক লাগছে? আসলে এটাই সত্যি। তার নাম ভরত জৈন। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস কিংবা আজাদ ময়দানের কাছে ভিক্ষা করেন তিনি। তার সাধারণ পোশাকের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সফলতার গল্প।
সবথেকে অবাক করার বিষয় হল কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও তিনি আজও ভিক্ষা ছাড়েননি। হ্যাঁ, কেউ কেউ বলেন এটি তার অভ্যাস হয়ে গেছে। আবার কেউ মনে করেন যে, এটি তার পেশার প্রতি সম্মান। যাই হোক, ফুটপাত থেকে ভিক্ষা করেও যে কেউ কোটি টাকার সাম্রাজ্যের মালিক হতে পারে, তা ভরত জৈন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
শুধু তাই নয়, তিনি থানে অঞ্চলের দুটি দোকানেরও মালিক। আর সেখান থেকে দিনে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে আয় হয়। আর এই অতিরিক্ত আয় তার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করে তুলেছে। ভরত জৈনর আর্থিক সাফল্যের সব থেকে বড় প্রভাব পড়েছে তার সন্তানদের উপর। হ্যাঁ, মুম্বাইয়ের একটি নামী কনভেন্ট স্কুল থেকে তারা পড়াশোনা শেষ করেছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে তার ছেলেরা পারিবারিক স্টেশনারি ব্যবসায় সাহায্য করছে, যা তাদের আয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
আসলে ভারত জৈন-র শুরুটা ছিল চরম দারিদ্র্যতার মধ্য দিয়ে। পরিবারের পক্ষে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করাই দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল। শিক্ষার নামগন্ধ পায়নি ভরত। অথচ এই প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে তিনি নিজেই বদলে ফেলেছেন পরিশ্রম আর সফলতার সংজ্ঞা। বিগত ৪ দশকের বেশি সময় ধরে ভিক্ষা তার পেশা। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ভিক্ষা করেন। সপ্তাহে সাত দিন। রিপোর্ট বলছে, তিনি দিনে ঘরে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। মাস গেলে দাঁড়ায় ৬০,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকার মতো, যা ভারতের কর্পোরেট চাকরির কর্মীদের প্রারম্ভিক বেতনের থেকেও অনেকটা বেশি।
ভরত জৈন যে শুধু আয় করেছেন, এমনটা কিন্তু নয়। তিনি বিনিয়োগ করেছেন বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। হ্যাঁ, মুম্বাইয়ে তার দুটি ফ্লাট রয়েছে, যার বাজার মূল্য ১.৪ কোটি টাকা। আর এই ফ্লাটেই বর্তমানে তার পরিবার থাকে। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে, বাবা এবং ভাই।


More Stories
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!