Home » আমদাবাদের ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়! ক্রমাগত বাড়ছে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা

আমদাবাদের ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়! ক্রমাগত বাড়ছে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বৃহস্পতিতে মৃত্যু মিছিল দেখেছে গোটা দেশ। একটা ঘটনা হাজারো পরিবারকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে। ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঝলসে মৃত্যু একের পর এক প্রাণের। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সেই থেকে শুরু উদ্ধার কাজ। সেই উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ স্থানীয় অনেকে। শনিবার সকালে ওই ধ্বংসস্তুপ থেকে নতুন করে কয়েকটি দেহ পাওয়া গিয়েছে। এসবের মাঝেই জানা গিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সংখ্যাটা প্রায় ২৭০ জনেরও বেশি। মৃতের তালিকায় জুড়েছে দুর্ঘটনাস্থলে থাকা আরও মানুষের নাম। আগেই বিমানের ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। এছাড়াও দুর্ঘটনার অভিঘাতে মেডিক্যালের পড়ুয়া এবং স্থানীয় অনেকের মৃত্যুর খবরও জানা গিয়েছিল। শনিবার অবশ্য স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ধ্বংসস্তুপ থেকে আরও কয়েকটি দেহ মিলেছে। যার জেরে মৃতের সংখ্যা ২৭০ জনেরও বেশি।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও তথ্যের উল্লেখ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে নিয়মমাফিক যাত্রা শুরু করেছিল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয় পার্শ্ববর্তী মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে। সংঘর্ষের পরেই তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং বিমানে আগুন ধরে যায়। যেখানে বিমানটি ভেঙেছে, সেখানেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিমানের কোনও না কোনও অংশের ধাক্কায় বা বিস্ফোরণের আগুনে তাঁরা ঝলসে গিয়েছেন।

স্থানীয় আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতাল এবং বিজে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।

সেই সময় দুর্ঘটনাস্থলের তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখিরাও রেহাই পায়নি। ভয়ঙ্কর তাপে কেউ বেরিয়ে আসার সুযোগই পায়নি, উদ্ধারকার্যেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

স্থানীয় অনেকে এখনও নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকের সম্পূর্ণ দেহ পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে উদ্ধার করা হয়েছে দেহাংশ। কারও শুধু হাত খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, কারও পায়ের অংশ। এই সমস্ত দেহাংশ শনাক্ত করা কঠিন। অনেকের সম্পূর্ণ দেহ মিললেও তা চেনা যাচ্ছে না। শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে গুজরাট প্রশাসন। যাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যাঁরা বিমানে ছিলেন বা বিমান ধ্বংসের ঘটনাস্থলে ছিলেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ডিএনএ নমুনা চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে কথা বলেন মোদি। এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন বিশ্বকুমার রমেশ। আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় তিনিই একমাত্র যাত্রী, যিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।

About Post Author