Home » কসবায় গণধর্ষণ, নাম জড়াল তৃণমূল নেতার, সরব বিরোধীরা, জবাব দিল তৃণমূল

কসবায় গণধর্ষণ, নাম জড়াল তৃণমূল নেতার, সরব বিরোধীরা, জবাব দিল তৃণমূল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চাঞ্চল্য কলকাতায়, এ বার দক্ষিণ কলকাতার কসবার এক ল কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল।

ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র, ওই ল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে আলিপুর আদালতে আইন প্র্যাকটিস করেন। বাকি দুই অভিযুক্ত জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়— বর্তমানে কলেজেরই ছাত্র। আর তৃণমূল নেতার নাম জড়াতেই আসরে নামল বিজেপি।

কলকাতায় ছাত্রীকে গণধর্ষণ, মূল অভিযুক্তের সঙ্গে অভিষেকের ছবি খুঁজে বের করল বিজেপি। ছবিতে মনোজিতকে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর বৌদি তথা কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য বলেন, আরজিকরের আতঙ্ক এখনও মুছে যায়নি। তার মধ্যেই আবার এমন ঘটনা। বাংলায় নারীদের জন্য মমতার রাজত্ব দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দ্বারা শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। তৃণমূলের ছাত্র নেতারা বারবার তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভয় ও অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করছে। সাংবাদিকদের সামনেও সরব বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

প্রতিবাদে রাস্তায় নামল বিরোধীরা। বিক্ষোভে শামিল বিজেপি। কসবা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি এবং কংগ্রেস। পথ অবরোধও করে তারা। রীতিমতো কলেজের গেট টপকে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা এবং ছিঁড়ে ফেলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্লেক্স। সেইসঙ্গে, কসবা থানার সামনে পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বাম ছাত্র-যুব কর্মীরা।

কসবায় আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া যুবকদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর চলছে। কসবার ঘটনায় যখন বিরোধীরা, তখনই কসবা কাণ্ডে অভিযুক্তের ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ স্পষ্ট করল টিএমসিপি। ‘কলেজে কোনও ইউনিট প্রেসিডেন্ট নেই’, সাফ জানিয়ে দেন টিএমসিপির রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

একে একে জবাব দিতে আসরে নামেন শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা। বাংলায় ধর্ষকদের মালা পরানো হয় না, ১২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ। কসবাকাণ্ডে মুখ খুলল তৃণমূল।

রাজনৈতিক তর্জা তো চলছেই। তবে এসবের মাঝেই সতর্ক প্রশাসন। কলকাতার কলেজে ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ডে ভুয়ো তথ্য রটালেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। ডিসিপি যাদবপুর ডিভিশন কলকাতার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এনিয়ে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রিপোর্ট তলব করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতার নগরপালকে ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

About Post Author