সময় কলকাতা: সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আর এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্যই কোন সুগঠিত পরিকাঠামো নেই। এমনই ছবি দেখা গেল ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কর্মীরা সঠিক বেতন এবং পিএফ এর দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবি, করোনা কাল থেকেই তারা পরিষেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের জন্যই তৈরি হয়নি কোনো সুষ্ঠু পরিকাঠামো। গত চার বছর ধরে তাদের বেতন বাড়ানো হয়নি। এমনকি ঠিক মতন পিএফ এর টাকা দেওয়া হয় না তাদের। মাসিক বেতন ৮৫০০ টাকা থেকে বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫০০ টাকায় । হাসপাতালের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানিয়েও কোন ফল হয়নি।
তারা জানান মাসে ৩১ দিন ডিউটি করলেও ২৬ দিনের বেতন পান তারা। গত চার বছর ধরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ রাখেনি বলেই জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বেতন বাড়ার বদলে কমেছে বেতনের পরিমাণ। তারই প্রতিবাদে এদিন ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কর্মরত ১৪০ জন অস্থায়ী কর্মী বিক্ষোভ দেখান।
এদিন এক অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা পরিষেবা দিয়ে আসছি । কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা কোনো সুষ্ঠু পরিকাঠামো পাইনি। আমাদের কোন কোম্পানি থেকে বেতন দেওয়া হয় আমরা তাই জানিনা। আগে আমরা ৮৫০০ টাকা বেতন পেতাম। কিন্তু বর্তমানে নতুন কোম্পানি আসায় তা কমে ৭৫০০ টাকায় পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে দুজনকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে । তারা পিএফ এর টাকা পেলেও বেতনের টাকা পাচ্ছেন না। আমরা এর আগে উচ্চপদস্থ কর্মীদের কাছে চিঠি দিয়েছি, এমনকি আমরা স্থানীয় প্রশাসনকেও জানিয়েছি কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি। অবশেষে আমরা স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তারপরও উপরমহল থেকে কোনো রকম কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি।”
বর্তমানে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ রয়েছে । এই হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীদের দাবি, যতক্ষণ না কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা তাদের বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছেন ততক্ষণ তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের এই দাবি না মানা হলে আগামী দিনে আরো বড় আন্দোলনের পথে নামবেন বলেই জানিয়েছেন ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীরা।


More Stories
যুবকের নতুন জীবন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হাত ধরে
রাতারাতি আট চিকিৎসক বদলি, চিকিৎসা সংকটে ধুপগুড়িবাসী
ডুয়ার্সে সফল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প