Home » মহাশিবরাত্রির দিন জানুন ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের কাহিনী

মহাশিবরাত্রির দিন জানুন ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের কাহিনী

সময় কলকাতা ডেস্ক: সারা দেশে প্রায় ১২ টি জায়গায় মহাদবের জ্যোর্তিলিঙ্গের উপাসনা করা হয়। প্রতিটি মন্দিরের স্থাপনার নেপথ্যে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। জেনে নেওয়া যাক, সেই সব জ্যোতির্লিঙ্গের কাহিনী।

• সোমনাথ- গুজরাতের সোমনাথ মন্দির শিবশক্তির জ্যোর্তিলিঙ্গগুলির মধ্যে অন্যতম পবিত্র মন্দির বলে মনে করেন হিন্দুরা। কথিত রয়েছে, এই মন্দির বৈদেশিক আক্রমণে ১৬ বার ধ্বংস ও ১৬ বার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। কথিত আছে দক্ষের কাছে অভিশাপ পায় চন্দ্র। অভিশাপ পেয়ে চন্দ্রের আলো কমে যায়। দেবতারা ভয় পেয়ে দক্ষের কাছে এর উপায় জানতে চান। দক্ষ চন্দ্রকে বলেন মহাদেবের পুজো করতে। মহাদেবের আশীর্বাদে ফিরে আসে চন্দ্রের জ্যোতি। তাই সোমনাথ মন্দিরকে পূর্ণিমার রাতে অসামান্য সুন্দর দেখায়।

• মল্লিকার্জুন মন্দির- অন্ধ্র প্রদেশের রায়ালসীমায় রয়েছে মল্লিকার্জুন মন্দির। দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীশৈলমে অবস্থিত একটি শিবমন্দির। কথিত রয়েছে, শিব, ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে কে সর্বশ্রেষ্ঠ, তা জানতে শিব, ত্রিভুবনকে একটি জ্যোতির্লিঙ্গ দ্বারা বিভক্ত করেন। মহাদেবের সেই রূপকেই এখানে পুজো করা হয়।

• মহাকালেশ্বর মন্দির- দুশন নামের এক রাক্ষসের হাত থেকে উজ্জয়িনীবাসীদের মুক্তি দেওয়ার পর মহাদেবকে এখানে মহাকালেশ্বর রূপে পুজা করা হয়। রূদ্রসাগরের তীরে অবস্থিত এই মন্দির ।

• ওমকারেশ্বর- মধ্যপ্রদেশের ওমকারেশ্বর মন্দিরও যথেষ্ট বিখ্যাত। মনে করা হয় রাজা মান্ধাতা শিবপুজোর জন্য এই মন্দির স্থাপন করেন।

• কেদারনাথ- পান্ডবেরা নিজেদের পাপস্খলন করতে শিবপুজো করতে চান। সেই সময় কেদারনাথে তাঁরা দেখতে পান এই জ্যোতিলিঙ্গের। সেখানেই পুজো করার পর গড়ে ওঠে মন্দির।

• ভীমশঙ্কর- ষষ্ঠ জ্যোর্তিলিঙ্গটি মহারাষ্ট্র পুনের ভিমশঙ্করে অবস্থিত। ভীম নামের এক দানবের হাত থেকে ভক্তদের রক্ষা করেন শিব। তারপর শিবের আরাধনার জন্য গড়ে ওঠে পুনের এই মন্দিরের জ্যোর্তিলিঙ্গ।

• কাশী বিশ্বনাথ মন্দির- মনে করা হয়, কাশী শহরটির মালিক স্বয়ং শিব। উত্তর প্রদেশের বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির হল সপ্তম জ্যোর্তিলিঙ্গ।

• ত্রিম্বকেশ্বর- শোনা যায়, স্ত্রী অহল্যাকে নিয়ে গৌতম মুনি মহারাষ্ট্রের এই স্থানে বাস করতেন। সেখানে নদী নিয়ে আসার জন্য শিবের কাছে প্রার্থনা জানান মুনি। তাঁর সেই প্রার্থনা পূরণ করেন মহাদেব। সেই কাহিনিকে স্মরণ করেই শিবের ত্রিম্বকেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়েছে। এখানে একটি বিশেষ পাথর খচিত মুকুটও রয়েছে, যা দেখতে ভিড় করেন অনেকেই।

• বৈদ্যনাথ মন্দির- ঝাড়খন্ডের বৈদ্যনাথ মন্দির নিয়ে যে উপকথাটি প্রচলিত রয়েছে, তা হল, রাবণের উপাসনায় খুশি হয়ে মহাদেব তাঁকে একটি জ্যোতিলিঙ্গ দেন এবং বলেন লঙ্কায় যাওয়ার আগে কোথাও জ্যোতির্লিঙ্গটি না রাখতে, তাহলে সেখানেই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। রাবণ একটি ছোট ছেলের হাতে দেন জ্যোতির্লিঙ্গটি দিয়ে ধরে রাখতে বলেন। কিন্তু ছেলেটি সেখানেই ভূমিতে নামিয়ে রাখেন। কথিত রয়েছে, সেই ছেলেটি গণেশ এবং যেখানে জ্যোতির্লিঙ্গটি রাখা হয়েছিল, সেটি ঝাড়খণ্ড।

• নাগেশ্বর- গুজরাতের দ্বারকায় রয়েছে এই জ্যোর্তিলিঙ্গের মন্দির। দৌরাকা রাক্ষসের হাত থেকে ভক্তকে রক্ষা করার পর শিবের মহিমার আরাধনায় স্থাপিত হয় নাগেশ্বর মন্দির।

• রামেশ্বরম- তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে শিবের দুটি লিঙ্গ রয়েছে। একটি লিঙ্গ পুজা করতেন সীতা, অন্যটি হনুমান দ্বারা পূজিত হত বলে কথিত রয়েছে। রাবণকে পরাজিত করে এসে এখানেই শিবের আরাধনা করেন রাম। সেই থেকে রামেশ্বরমে শিবের দুটি জ্যোর্তিলিঙ্গ স্থাপিত রয়েছে।

• গ্রীষ্ণেশ্বর- ঔরঙ্গাবাদের গ্রীষ্ণেশ্বর মন্দির মহারাষ্ট্রের অজন্তা ও ইলোরার খুবই কাছাকাছি অবস্থিত। এই মন্দিরকে কুসুমেশ্বর মন্দিরও বলা হয়।

About Post Author