Home » আকাশের কপালে কালো মেঘ, পরীক্ষা দিতে পারল না মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী,গাফিলতি কার?

আকাশের কপালে কালো মেঘ, পরীক্ষা দিতে পারল না মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী,গাফিলতি কার?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় আর বসা হলো না আকাশের। জীবনের আকাশে নেমে এল কালো মেঘ। নদীয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকাশ ঘোষ এডমিট কার্ড না পেয়ে পরীক্ষায় বসতে পারলেন না। অথচ আজ থেকেই শুরু হল এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। করোনা কাল কাটিয়ে নিউ নর্মালে ২০২২ সালে অফ লাইনে অর্থাৎ স্কুলের ক্লাসে বসে পরীক্ষা শুরু হল। আর সেই পরীক্ষাই দিতে পারলেন না আকাশ, সম্পূর্ন স্কুলের গাফিলতির কারণেই। স্কুলের বিরুদ্ধে এমনটাই গুরুতর অভিযোগ আনলেন আকাশের অভিভাবকরা।

আকাশ ঘোষ বয়স ১৬ কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের পড়ুয়া। এই পড়ুয়াকে সহযোগিতা তো দূরের কথা কোনরকম গুরুত্ব দিলেন না কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস। আকাশ ঘোষের বাড়ি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত রাজা রোড ষষ্ঠী তলা এলাকায়। স্কুল সুত্রের খবর বিগত বেশ কিছুদিন আগে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে ভূগোল শিক্ষকের মধ্যে প্রকাশ্যেই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এরপর আবারও ফের এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, ওই স্কুলের পড়ুয়াকে কোন রকম সহযোগিতা না করার জন্য।আকাশ ঘোষের মা মিতা ঘোষের অভিযোগ মোবাইলে অ্যাডমিট কার্ডের মেসেজ আসার পর তার ছেলে স্কুলে অ্যাডমিট কার্ড আনতে গেলে স্কুল থেকে বলা হয় তার নামে কোন অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। স্কুলের হেড স্যারকে জিজ্ঞেস করতে তাঁর উত্তর ছিল আকাশ নাকি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপই করেনি, তাই তার নামে কোন অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। এরপর আকাশের বাবা জিজ্ঞআসা করেন এখন তাহলে কি ভাবে আকাশ কি ভাবে পরীক্ষা দেবে? তাঁর উত্তরে প্রধান শিক্ষক বলে আকাশ আবার পরের বারে পরীক্ষায় বসতে পারবে।পরিবারের দাবি অ্যাডমিট কার্ড না পাওয়ার কারণে আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারলো না আকাশ ঘোষ। আর তা না পাওয়ার জন্য একজনই দায়ী, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস। তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আকাশের এই পরিনতির জন্য প্রকৃতপক্ষে স্কুল কতটা দায়ী? আর অন্যদিকে আরও একটি প্রশ্ন,আকাশের অভিভাবকদের উদাসীনতা নিয়ে। তারা কি জানত না স্কুলের সব ছাত্র যখন মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপ করছে তখন তাদের ছেলেকেও ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। নাকি তারা এড়িয়ে গিয়ে স্কুলের ওপরেই সব ছেড়ে দিয়ে বসেছিলেন! এত গুলি প্রশ্নের পর সর্বোপরি একটাই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে কি হবে এই আকাশের ভবিষ্যৎ? হতাশার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে আকাশ ও তার অভিভাবক। আকাশ নিজেও জানেনা তার আকাশে এই মেঘলা দিন কাটবে কবে !

About Post Author