Home » পিছু ছাড়ছে না যুদ্ধের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

পিছু ছাড়ছে না যুদ্ধের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

সময় কলকাতা ডেস্ক:  অবশেষে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে নিজের ঘরে ফিরল কিভ মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাসুম হামিদ পারভেজ। এখনো পিছু ছাড়ছে না যুদ্ধের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। বাঙ্কারের মধ্যে অনিশ্চিত ভাবে গাদাগাদি ভিড়ে থাকতে হয়েছে। যোগাযোগ ছিন্ন ছিল বাড়ির সঙ্গেও। বাঙ্কারে থেকে শুনতে হয়েছে একের পর এক গোলা বর্ষনের আওয়াজ। তখন সামনে মৃত্যু ছাড়া আর কিছু ছিল না। ছিল না পর্যাপ্ত খাবার,জল। পরে বাঁচার তাগিদে নিজেদের উদ্যোগেই বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।

Student

বাড়ি ফেরার এই যাত্রাপথ মোটেও সস্তির ছিন না। ইউক্রেন ফেরত মাসুম জানান, ভারতের পতাকা নিয়ে ১১ কিলোমিটার হেঁটে কাছের স্টেশন। চারদিকে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। আলাদা আলাদা ৫ বা ১০ বা ১৫ জনের দল করে হেঁটে কাছের স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠতে হয়েছে। সেখানেও ভিড়। আতঙ্ক সকলের চোখে মুখে। সাহায্য করেছে ইউক্রেনীয় কিছু রেস্টুরেন্টের লোকজন। কোনক্রমে সীমান্ত পেরিয়ে হাঙ্গেরি। হাঙ্গেরি সরকারও সাহায্য করেছে। মুম্বই পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্র সরকার। পরে মুম্বই থেকে কলকাতা হয়ে একেবারে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

wire news

বাড়ির সামনে গাড়ি থেকে নামতেই মাসুনের বাবা মোহাম্মদ মোমিনুদ্দিন, মা হামেদা খাতুন গোটা পরিবার সহ মাসুমকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাসুমকে সংবর্ধনা জানাতে এস ডি পি ও শুভেন্দু মন্ডল, সঙ্গে ছিলেন আইসি সঞ্জয় কুমার দাস, ও অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা তার বাড়িতে এসেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমকে সংবর্ধনা দিলেন জেলা তৃণমূল সাধারন সম্পাদক বুলবুল খান ও জম্মু রহমান। মাসুম বাড়ি আসছে শুনেই পাড়া-প্রতিবেশীরাও মাসুম কে দেখতে ভিড় জমান।

masum muslim student

মাসুম এমবিএসের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বাবা মোহাম্মদ মমিনউদ্দীন স্থানীয় মিটনা হাইস্কুলের শিক্ষক। মা হামেদা খাতুন গৃহবধূ। মাসুমের ২ দিদি রয়েছে বিবাহিত এবং এক ছোট ভাই রয়েছে।তবে ভবিষ্যতে কীভাবে এমবিবিএসের পড়া সম্পূর্ণ করবে তা নিয়ে চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা।তাই পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেজন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন রেখেছে মাসুম।

About Post Author