Home » ইউক্রেনের নারী ও যৌনকর্মীদের অবস্থা এখন কিরকম ?

ইউক্রেনের নারী ও যৌনকর্মীদের অবস্থা এখন কিরকম ?

সময় কলকাতা ডেস্ক : “ওরে প্রজা পেয়ে অষ্টরম্ভা/
হল হীনবল/তোরা যুদ্ধ করে করবি/কী তা বল!” গুপী-বাঘার যুগলবন্দিতে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার গান আজ ইউক্রেন- রুশ যুদ্ধেও আপ্তবাক্য। বিশেষ করে মহিলাদের হীনবল হওয়ার আর তাঁদের ওপরে হিংসার কাহিনী নিয়েছে ব্যাপ্তি।মহিলাদের সংকট তীব্রতর হয়ে উঠছে ইউক্রেনে ।এবার যুদ্ধে ইউক্রেনের মহিলাদের অভিজ্ঞতাগুলি ইতিহাস জুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুদ্ধে মহিলাদের দুর্দশারই প্রতিধ্বনি করছে। তাঁরা বলছেন, আমরা কম সুরক্ষার মুখোমুখি।

 

ইউক্রেন স্বতন্ত্র হওয়ার পরের দশকে জনসংখ্যার ৮০% প্রবল দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ায়  দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক কষ্টের জন্ম দেয়। যুদ্ধে এই কষ্ট আরও তীব্র হয়েছে। মানুষের ওপরে অত্যাচারজনিত শোক দুঃখ যুদ্ধে আরও বেড়েছে। নারীদের অবস্থা দুর্বিসহ ।

উল্লেখ্য, গত কিছুদিনে মহিলাদের আয়ের উৎস আরও সংকুচিত হচ্ছে । প্রাণ ও জীবনধারণ নিয়ে সংকটে ইউক্রেনবাসী মহিলারা। তাঁদের অবস্থা অবর্ণনীয়।

ইউক্রেনের যৌন ব্যবসায় পড়েছে প্রভাব।বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখা যাচ্ছিল ইউক্রেনের সেক্স ট্যুরিজম বাড়ছে।দেশটি অনেক বিদেশী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার কারণে এই পেশায় বাড়বাড়ন্ত । যুদ্ধে এই পেশায়ও প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেনে জনসংখ্যার পাশাপাশি গরিবীর সমস্যাটি বাড়লেও সেক্স ট্যুরিসম বেড়েছে। এই পেশার শ্রীবৃদ্ধি আরও অনেক কারণে হয়েছে , যেমন ইউরোপ মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে ভৌগোলিক পরিস্থিতি, যৌন পর্যটক এবং স্থানীয়দের স্বদেশের মধ্যে বড় অর্থনৈতিক ব্যবধান, অনেকের জন্য ভিসার অনুপস্থিতি। অথচ আজ সেই পেশাতেও ভাটার টান।

সাম্প্রতিক সময়ে  ইউক্রেন একটি জনপ্রিয় যৌনবৃত্তি এবং যৌন পাচারের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।এর মুলে নারীদের অর্থনৈতিক সংকট।বছর পঁচিশ আগেই ইউক্রেনে বেকারত্ব ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল, নারী বেকারত্ব ১৯৯৭ সাল নাগাদ ৬৪ শতাংশে পৌঁছে যায়।ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবনতি জাতিকে অরক্ষিত করে তোলে এবং অনেককে আয়ের উৎস হিসেবে পতিতাবৃত্তি ও পাচারের উপর নির্ভর করতে বাধ্য করে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ যা দেখছেন তার বেশিরভাগই ইউক্রেনের জননীদের নিয়ে ।দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ান কনভয় থেকে তাঁরা পালিয়েছেন অথবা তাদের সন্তানদের সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাচ্ছে।তাদের অনেকেই স্বামী-ভাইকে রেখে ঝগড়া করছেন।কিন্তু  এই হৃদয় বিদারক ফটোগ্রাফগুলি মূল কাহিনীর খন্ডচিত্র । বাস্তব হচ্ছে,এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে ইউক্রেনের নারীরা অগণিতসংখ্যায় মাত্রহীনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পর্নসাইটে “ইউক্রেনীয় মেয়েরা এবং যুদ্ধের ধর্ষণের ভিডিও”; প্রকাশ পেয়েছে । অভিযোগ উঠছে,জঘন্য নৃশংস অপরাধ হচ্ছে। সে অর্থে নথিভুক্ত হচ্ছে না রাশিয়ান সৈন্যদের আধিপত্য প্রদর্শনের।গার্হস্থ্য হিংসা এবং রাস্তায় হয়রানি ইতিমধ্যেই বেড়েছে।নারী শরণার্থীরা পাচারকারীদের শিকার হচ্ছে।

যেখানে নারীরা উদ্বিগ্ন করার মত সেখানে যুদ্ধের সংবাদ বেশিরভাগই শিশুদের নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মহিলাদের উপর কেন্দ্রীভূত বলে ইউক্রেনীয় নারীবাদী কর্মী মারিয়া দিমিত্রাভা দাবী করেছেন। তিনি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিসকিপার-এর একজন প্রধান সদস্য। তাঁর মতে,এখনও অব্দি বিভিন্ন তথ্য মহিলাদের জন্য যুদ্ধের বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেএবং এই উপায়ে মহিলাদের বিশেষভাবে আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা ।

২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ইউক্রেনের ৭৫ শতাংশ মহিলা ১৫ বছর বয়স থেকে কোনো না কোনো ধরনের হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন এবং তিনজনের মধ্যে একজন শারীরিক বা যৌন হিংসার সামনে পড়েছেন। এই হিংসা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। ইউক্রেনের নারীরা বড় দুঃসময়ে কালাতিপাত করছেন।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, সঙ্কট এবং বাস্তুচ্যুতি সম্প্রতি ইউক্রেনের নারীদের যৌন -শারীরিক হিংসা, নিগ্রহ এবং নির্যাতনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
রাশিয়ান আগ্রাসনের পর থেকে নারী ও মেয়েদের হিংসার মাত্রা দেখানোর জন্য এখনও পর্যন্ত কোন পরিসংখ্যান নেই, তবে নারীদের এনজিও দ্বারা প্রচুর প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রমাণ যাই হাতে আসুক, হীনবল নারীদের যন্ত্রণার উপশমের কোনও আশ্চর্য রক্ষাকবচ নজরে পড়ছে না।

About Post Author