সময় কলকাতা ডেস্কঃ রামপুরহাটের ৮ জনের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের । সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া তিন জনের ভিতর দুইজনের চিকিৎসা চলছে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে। মঙ্গলবার সকালে বগটুই গ্রামের ওই পুরো বাড়ি থেকে দমকল বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার করে সাতটি মৃতদেহ। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত হয় সিট। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ একটি টুইটের মাধ্যমে জানান যে ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে সিট।
পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন সিটে রয়েছেন এডিজি সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিং আইজি ওয়েস্টার্ন জোন ভরত লাল মিনা ও ডিআইজি সিআইডি মিরাজ খালিদ। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইজি পশ্চিমাঞ্চল সঞ্জয় সিং। নবান্ন থেকে জানান হয়েছে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রামপুরহাটের এসডিপিও সায়ন আহমেদ ও রামপুরহাট থানার আইসি ত্রিদীপ প্রামাণিককে ক্লোজ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে প্রথমেই উপস্থিত হয় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, তারপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন তৃণমূলের উপপ্রধান খুন হয়েছেন পাশাপাশি যাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে খুন করা হয়েছে। সেই সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্ত হবে আর দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু সেখের বাড়িতে এদিন আসে তার মরদেহ। স্থানীয় গ্রামবাসীরা একে একে উপস্থিত হয় ভাদু সেখের বাড়ি। ভাদু সেখের স্ত্রী পরিষ্কারভাবে অভিযোগ জানান রামপুরহাট থানার আইসির বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এদিন সিটের তদন্তকারী টিম পাশাপাশি ফরেনসিক টিম এবং সিআইডির টিম। জানা গেছে আতঙ্কে ঘরের ভেতর থেকে তালা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাড়ির মহিলারা। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে পেট্রল ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর আগুন জ্বালিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান বাড়ির লোকজন। আর্ত চিৎকার শোনা যায় ঘরের ভেতর থেকে। কিন্তু কেউ আতঙ্কে তাঁদের রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেননি। জীবন্ত পুড়ে মারা যান ৮জন। যে বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে সেই সঞ্জু সেখের বাড়িতে এদিন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। গ্রামজুড়ে শুধু পুলিশের বুটের পদধ্বনি। ছোট আঙারিয়া, সুচপুর, নিতাইয়ের গণহত্যার পর বগটুইয়ের গণহত্যার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভার থেকে দাবি জানান রামপুরহাটের এই ঘটনা নিয়ে এনআইএ এবং সিবিআই উভয়ই তদন্ত শুরু করুক। পাশাপাশি পুলিশ মন্ত্রী পদত্যাগ দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এন আই এ ও সি বি আই তদন্তের দাবির পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এর নেতৃত্বে এদিন বিজেপির এক প্রতিনিধি দল দেখা করেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। পাশাপাশি বিজেপির প্রতিনিধিদল আগামীকাল রামপুরহাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। হাইকোর্টে বিজেপির তরফ থেকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা যতই দাবি করুক শাসকদলের মতে ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য গঠিত হয়েছে সিট পাশাপাশি ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রামপুরহাট এর ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে যে রাজনৈতিক তরজার সৃষ্টি হয়েছে তার জল কতদূর গড়ায় সেটাই এখন দেখার।


More Stories
ময়নাগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ তরুণী , আহত ৫
মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু ১
রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে নেতা যখন পরীক্ষার্থীদের মুশকিল আসান