সময় কলকাতা ডেস্কঃ নেতা, মন্ত্রী,পুলিশে ভরসা নেই তাই গ্রাম ছাড়লেন ভাদু শেখের পরিবার। বীরভূমের রামপুরহাটের তৃণমূল পঞ্চায়েত উপ-প্রধান ভাদু শেখের খুনের পর মঙ্গলবার রাতেই ভাদু সেখের পরিবার গ্রামের বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন অন্যত্র। ভাদু সেখের পরিবার জানিয়েছেন, রাতে তাদের উপর যে কোনো সময় দুষ্কৃতী হামলা হতে পারে। পুলিশের ওপর তাদের কোনো ভরসা নেই।সেই ভয়েই তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন আবার আক্রমণ শুরু হবে না তো? ভাদু শেখের পরিবারের পাশাপাশি সন্ধ্যা হতেই গ্রাম ছেড়েছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।গ্রামের বহু বাড়িতেই ঝুলছে তালা। চাপা আতঙ্ক যেন গ্রাস করেছে গোটা গ্রামকে।
উল্লেখ্য সোমবার রাতে ভাদু শেখের খুনের প্রতিবাদে ওই রাতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রামপুরহাটের বগটুই গ্রাম। বোমাবাজি শুরু হয় বগটুই গ্রামে।একের পর এক বাড়িতে আগুনও লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় আট জনের।আর সেই আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভাদু সেখের পরিবারকে। ভাদুর বাবার একটাই বক্তব্য দুই ছেলেকে হারিয়েছি আর কাউকে হারাতে রাজি নই।
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত হয় সিট। যদিও রাজ্য বিজেপি এই সিট গঠনে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাঁদের দাবি সিবিআই বা এ এন আই-কে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি এই ঘটনায় রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের দাবিও জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্যের কাছে। এদিকে আজই রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপির বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে যান। পুলিশ সূত্রের খবর, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িয়ে থাকা সন্দেহে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু তবু পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে একে একে গ্রাম ছাড়ছে ভাদু শেখের পরিবারসহ গ্রামের বহু পরিবার।।গ্রামে পুলিশি টহল থাকলেও আতঙ্ক যেন তাদের পিছু ছাড়ছে না। রামপুরহাটের বগটুই গ্রাম এখন পরিণত হয়েছে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। কবে স্বাভাবিক হবে তা কেউই জানেননা। ব্যুরো রিপোর্ট সময় কলকাতা।


More Stories
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!