সময় কলকাতা ডেস্ক: মহানন্দা-ফুলহার নদী তীরবর্তী অঞ্চল থেকে বেআইনি ভাবে বালি কেটে বিহারে পাচার হচ্ছে বালি।দীর্ঘদিন ধরেই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দৌলত নগর গ্রাম-পঞ্চায়েত এলাকার ভালুকা গোবরা ঘাট থেকে। বালি কেটে বেআইনি ভাবে এই বালি পাচারের কাজ।অভিযান চালিয়ে বালি পাচারের সময় চারটি ট্রাক্টর সহ পুলিশের জালে ৪ যুবক। জানা গেছে এই রাজ্য থেকে বালি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হতো পার্শ্ববর্তী বিহারে। যথেষ্ট ভাবে বালি কাটার ফলে বর্ষাকালে সহজেই নদীর জল ঢুকে যেত নদী তীরবর্তী অঞ্চল গুলিতে। এলাকাবাসী এবং বিরোধিদের অভিযোগ এই কারবারের পেছনে হাত রয়েছে শাসকদলের নেতাদের।

অবৈধ বালির কারবারের রমরমা নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে বুঝেই অভিযানে নামে পুলিশ। বালি নিয়ে যাওয়ার পথে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ আটক করে বালিভর্তি চারটি ট্রাক্টরকে। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাতে রয়েছে বিহার সীমান্ত। ফলে বিহার লাগোয়া এই এলাকা থেকে বিভিন্ন জিনিস সহজেই পাচার করে দেওয়া হয় বিহারে।এমনটাই অভিযোগ বাসিন্দাদের।

রাজ্য থেকে বিহারে বালি পাচার নিয়ে শাসক দলকে তোপ দেগেছে বিজেপি। দলের উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত।শাসক দলের মদতেই বালি পাচার চলছে বলে অভিমত উজ্জলবাবুর। তিনি বলেন, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। দলটা সম্পূর্ণ কাটমানি, চুরি এবং তোলাবাজির উপর চলে। পুলিশ যে গ্রেপ্তার করেছে হয় তো ইতিমধ্যে পুলিশের ওপর চাপ এসে গেছে। আদেও এর সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না দেখা যাক।

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ রায় চৌধুরী অবশ্য সবকিছুই বিজেপির অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। অপপ্রচার করা বিজেপির কাজ। দল এই ধরনের জিনিসকে বরদাশ্ত করে না। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করেছে বলেই ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় এই প্রথম নয়, এর আগেও বেআইনি ভাবে মাটি কেটে চুরির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছিল সরকারি আধিকারিকদের ওপরে। এক্ষেত্রে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় সেটা দেখার বিষয়।


More Stories
রক্ত পাচারের অভিযোগ বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে
নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মজুত বাজিতে বিস্ফোরণ
শ্রমিক যোগানের নামে মানব পাচার, চক্রের সন্ধানে এনআইএ, ধৃত এক অভিযুক্ত